মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
‘মোক একনা সরকারি ঘর দেন, সারা জীবন আঁচল বিচি দোয়া করনু’

‘মোক একনা সরকারি ঘর দেন, সারা জীবন আঁচল বিচি দোয়া করনু’

জেলা প্রতিনিধি: ‘দয়া করি কাও যদি মোক একটা ছোট্ট ঘর দেইল হয় তাহলে ওই ঘরত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি সারা জীবন মুই তার জন্য আঁচল বিচি দোয়া করনু হয়। হামার মন্ত্রী স্যারের কাছে মোর জীবনের শেষ ইচ্ছা পূরনে একটি দাবি, মোক একনা সরকারি ঘর দেন।’  এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন ৭৫ বছর বয়সী কদবানু।

লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর বাঁধের ওপর বসবাসকারী ৭৫ বছর বয়সী শ্রবণ প্রতিবন্ধী কদবানু দীর্ঘদিন বাস করে আসলেও সরকারি ঘর পাবার স্বপ্ন পূরণ এখনো অপেক্ষায়।

জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউপির কাশিরাম গ্রামে তিস্তার বাঁধের রাস্তায় বাড়ি করে একাই কোনো রকমে মাথা গুঁজে থাকেন তিনি। স্বামী নেই, নেই কোনো ছেলে সন্তানও। একটি মেয়ে থাকলেও সেও এখন স্বামীর বাড়িতে। কদবানুর জমি নেই। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া কদবানু জীবন কাটাচ্ছেন তিস্তার বাঁধে ভাঙা একটি টিনের চালায়।

কদবানুর আকুতি যেন সেই আসমানী কবিতার আসমানীদের হার মানায়। এমন একটি জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় বাস করেন তিনি কিন্তু সরকারি একটি ঘরের সহায়তার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার বাঁধে ভাঙা টিনের চালায় অনেক কষ্টে বাস করেন কদবানু। মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে শুধু একটি ঘরের আবেদন ৭৫ বয়সী কদবানুর।

জীবনের শেষ কটা দিন নিজের একটা ঘরে থাকার জন্য অনেকের কাছে ঘুরেছেন বছরের পর বছর। অবশেষে ডেইলি বাংলাদেশের এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে সমাজের হৃদয়বান বিত্তবানদের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে একটি সরকারি ঘরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এমনি আকুতি করে কদবানু বলেন, বর্ষাকালে একটু বৃষ্টি হলেই ঘরে আর থাকা যায় না। প্রধানমন্ত্রী অসহায়দের অনেক ঘর দিছেন। আমাকে একটি ঘর দিলে বৃদ্ধ বয়সে নিজের একটা ঘরে শুয়ে মরে গেলেও শান্তিতে মরতে পেতাম।

তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘দয়া করি কেউ যদি মোক একটা ছোট্ট ঘর দেইল হয় তাহলে ওই ঘরত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি বাকীজীবন মুই তার জন্য আঁচল বিচি দোয়া করনু হয়। হামার মন্ত্রী স্যারের কাছে মোর জীবনের শেষ ইচ্ছা পুরনে একটি দাবি, মোক একনা সরকারি ঘর দেন।’

স্থানীয়রা জানান, কদবানুর স্বামী নেই। অনেক আগেই মারা গেছে। আর মেয়েটি যতদিন বাড়িতে ছিল ততদিন তো শ্রম দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে চলতো তাদের কষ্টের জীবন। এ এলাকায় অনেকে সরকারি ঘর পেয়েছেন। কদবানুকে একটি ঘর দিলে তিনি উপকৃত হতেন। প্রকৃতপক্ষে এই কদবানু প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার ঘর পাবার যোগ্য বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন এই হতদরিদ্র কদবানুর দিকে সুদৃষ্টি দিয়ে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে তার দুঃখ দুর্দশা দূর করেন এমনটাই আশা করছেন এলাকাবাসী।

ইউপি সদস্য আবু তালেব বলেন, অসহায় কদবানুকে একটি সরকারি সহায়তার ঘর দিলে তার দুঃখ দুর্দশার অবসান হতো। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ কদবানুর জন্য একটি ঘর দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

তুষভান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলাম আহমেদ জানান, কদবানুুর বিষয়টি কেউ জানায়নি। তাই তার বিষয়টি সেভাবে দেখা হয়নি। পরবর্তীতে ঘর আসলে তাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

এজেড এন বিডি ২৪/ শফি 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24