বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ :
সাড়ে ৪ ঘণ্টা আগে বিএনপির গণসমাবেশ শুরু ২৪ বছর পর থামলো ব্রাজিলের রেকর্ডযাত্রা ইতিহাস গড়া গোল করে কেন লাল কার্ড দেখলেন আবুবাকার? ‘দ্বিতীয়’ ব্রাজিল জিততে পারল না ব্রাজিলকে হারিয়েও হতাশায় পুড়ল ক্যামেরুন ‘ইপাসি’ দেওয়ালে প্রথমার্ধে দুঃস্বপ্ন ব্রাজিলের ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় নারীর মৃত্যু নিরাপদ ক্যাম্পাস দাবিতে বিক্ষোভ রোনালদোদের হারিয়ে কোরিয়ার উৎসব চোখের জলে সুয়ারেজ-কাভানিদের বিদায় আইপিএলের নিলামে সাকিব-মোস্তাফিজসহ ৬ বাংলাদেশি রাজশাহীতে পৌঁছালেন মির্জা ফখরুল মিসেস এশিয়া বাংলাদেশের আয়োজকদের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ প্রতিযোগী রাহা’র সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজকদের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আমাকে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক-সব দিকেই টর্চার করেছে: সারিকা প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ
বিশিষ্ট অভিনেতা আবদুল কাদেরের ইন্তেকাল

বিশিষ্ট অভিনেতা আবদুল কাদেরের ইন্তেকাল

বিনোদন ডেস্কঃ চির বিদায় নিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা আবদুল কাদের। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শোকে ভাসছে সংস্কৃতি অঙ্গন। শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী খাইরুননেছা কাদের এবং এক ছেলে, পুত্রবধূ ও মেয়েকে রেখে গেছেন। শনিবার বেলা ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত শেষবারের মতো প্রিয় অঙ্গন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে রাখা হবে আব্দুল কাদেরের মৃতদেহ। নাট্যযোদ্ধা, বন্ধু, সহকর্মী আর ভক্ত, অনুরাগীদের ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হবেন বরেণ্য এই নাট্যজন।সেই বিখ্যাত চরিত্র “বদি” কিংবা আজ রবিবারের দুলাভাই বা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির “মামা”- প্রতিটি চরিত্রেরই অনন্যজন ছিলেন আব্দুল কাদের। বেশ কিছুদিন ধরেই রোগে ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৮ ডিসেম্বর ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়া হয় আবদুল কাদেরকে। সেখানকার হাসপাতালে পরীক্ষার পর ১৫ ডিসেম্বর তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন, ক্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।

শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাঁকে কেমোথেরাপি দেয়া যায়নি। গত রোববার সন্ধ্যায় অভিনেতাকে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন ২১ ডিসেম্বর তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। গত বৃহস্পতিবার কিছুটা ভালো ছিলেন আবদুল কাদের। করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে পরিবারের কেউ হাসপাতালে ছিলেন না। মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার সোনারং গ্রামে আব্দুল কাদিরের জন্ম। তাঁর বাবা মরহুম আবদুল জলিল ও মা মরহুমা আনোয়ারা খাতুন। সোনারং হাইস্কুল ও বন্দর হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স ও এমএ করেন। শুরুতে অর্থনীতিতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর কলেজ এবং মুন্সীগঞ্জের লৌহজং কলেজে অধ্যাপনা এবং বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি করেন। পরে ১৯৭৯ সাল থেকে আর্ন্তজাতিক কোম্পানী ‘বাটা’তে চাকুরিরত ছিলেন তিনি।

এদেশের নাট্যাঙ্গনে আবদুল কাদের একটি সুপরিচিত নাম, স্বমহিমায় ভাস্বর। স্কুল জীবন থেকেই অভিনয় শুরু তার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে অমল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার প্রথম নাটকে অভিনয় শুরু। ১৯৭২-৭৪ পরপর তিন বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল ছাত্র সংসদের নাট্যসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে আন্তঃহল নাট্য প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন মহসিন হলের নাটক সেলিম আল দীন রচিত ও নাসিরউদ্দিন ইউসুফ নির্দেশিত ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ -এ অভিনেতা হিসেবে পুরষ্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রযোজিত বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ জ্ঞানের অনুষ্ঠান ‘বলুন দেখি’ -তে চ্যাম্পিয়ান দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে পুরষ্কারও লাভ করেন আবদুল কাদের। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ডাকসু নাট্যচক্রের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭৩ সাল থেকে থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য এবং চার বছর যুগ্ম-সম্পাদক ও ছয় বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। শেষে থিয়েটারের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবেও দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।
১৯৭৪ সালে ঢাকায় আমেরিকান কলেজ থিয়েটার ট্রুপ কর্তৃক আয়োজিত অভিনয় কর্মশালায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরও আগে ১৯৭২ সাল থেকে টেলিভিশন ও ১৯৭৩ সাল থেকে রেডিও নাটকে অভিনয় শুরু হয় তার। টেলিভিশনে তার অভিনীত প্রথম কিশোর ধারাবাহিক নাটক ’এসো গল্পের দেশে’। আবদুল কাদের বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাট্যশিল্পী ও নাট্যকারদের একমাত্র সংগঠন টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদ’ টেনাশিনাস -এর সহ-সভাপতি।
সদর্পে মঞ্চে বিচরণ এই বলিষ্ঠ অভিনেতার। থিয়েটারের প্রায় ৩০টি প্রযোজনার প্রতিটিতে অভিনয় এবং ১০০০টিরও বেশি প্রদর্শনীতে অভিনয়ে অংশ নেন আব্দুল কাদের। উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, এখনও ক্রীতদাস, তোমরাই, স্পর্ধা, দুই বোন, মেরাজ ফকিরের মা। ১৯৮২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবে বাংলাদেশের নাটক থিয়েটারের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ -এ অভিনয় করেন। এছাড়া, দেশের বাইরে জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, কোলকাতা, দিল্লি, দুবাই এবং দেশের প্রায় সবক’টি জেলায় আমন্ত্রিত অভিনয় করেছেন। এছাড়া, টেলিভিশনে দুই হাজারের বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।
উল্লেখযোগ্য টিভি নাটক: কোথাও কেউ নেই, মাটির কোলে, নক্ষত্রের রাত, শীর্ষবিন্দু, সবুজ সাথী, তিন টেক্কা, যুবরাজ, আগুন লাগা সন্ধ্যা, এই সেই কন্ঠস্বর, আমার দেশের লাগি, প্যাকেজ সংবাদ, সবুজ ছায়া, কার ছায়া ছিল, দীঘল গায়ের কন্যা, কুসুম কুসুম ভালোবাসা, নীতু তোমাকে ভালোবাসি, আমাদের ছোট নদী, ভালমন্দ মানুষেরা, দূরের আকাশ, ফুটানী বাবুরা, হারানো সুর, দুলা ভাই, অজ্ঞান পার্টি, লোভ, মোবারকের ঈদ, বহুরুপী, এই মেকাপ, ঢুলী বাড়ী, সাত গোয়েন্দা, এক জনমে, জল পড়ে পাতা নড়ে, খান বাহাদুরের তিন ছেলে, ইন্টারনেটের বউ, ঈদ মোবারক, সিটিজেন, হতাই, ফাঁপড়, চারবিবি, সুন্দরপুর কতদুর, ভালবাসার ডাক্তার, চোরাগলি, বয়রা পরিবার।
চলচ্চিত্রে উল্লেখযোগ্য অভিনয়: রং নাম্বার।
অভিনয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের কাজও করেছেন এ সফল অভিনেতা। উল্লেখযোগ্য বিজ্ঞাপনচিত্র: গরু মার্কা ঢেউ টিন, বম্বে সুইটস এর চিকেন ক্রেকার্স, ভালো বীজে ভালো ফসল, এলিফ্যান্ট কিং মশার কয়েল, ইকোনো বল পেন, চাকা বল সাবান, জংশেন মোটর সাইকেল, এলজি এয়ার কন্ডিশনার, কোয়ালিটি আইসক্রীম, ক্রাউন মেলামাইন, অশোক লিলেন্ড, কেয়া শেভিং ক্রিম, ডেক্সট্রোজ, পারফেক্ট মিটার, হার্ট ফাউন্ডেশন লটারী, গাজী ট্যাংক, মাইওয়ান টিভি, কোয়ালিটি গুড়ো দুধ, প্রমি গুড়া মশলা, মোবাইল বাজার, সবুজ ছায়া গোল্ডেন সিটি, হিমতাজ তৈল, তালুকদার গ্র“প ইউপিভিসি পাইপ।
এতো এতো কাজের অনেক স্বীকৃতিও পেয়েছেন আব্দুল কাদের। অনেক পুরস্কারের মধ্যে অন্যতম – টেনাশিনাস পদক, টেলিভিশন দর্শক ফোরাম অ্যাওয়ার্ড, চ্যানেল আই ঝিলিক ঈদ আনন্দ পুরষ্কার, মহানগরী সাংস্কৃতিক ফোরাম পদক, অগ্রগামী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পদক, যাদুকর পি.সি. সরকার পদক, মহানগরী অ্যাওয়ার্ড, ওস্তাদ আমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড, উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিষদ পুরষ্কার, লালন শাহ্ স্মৃতি স্বর্ণপদক, সাকো টেলিফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, বিক্রমপুর সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী অ্যাওয়ার্ড, অর্থকন্ঠ অ্যাওয়ার্ড, ফুলকলি অ্যাওয়ার্ড, কম্পিউটার সিটি অ্যাওয়ার্ড, বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা অ্যাওয়ার্ড।
এজেড নিউজবিডি২৪/রনি 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *