বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৩৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
ওএমএস’র চাল নিয়ে দুই যুগের কালোবাজারি, অবশেষে ধরা

ওএমএস’র চাল নিয়ে দুই যুগের কালোবাজারি, অবশেষে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ওএমএস’র (ওপেন মার্কেট সেল) চাল কালোবাজারির অভিযোগে মোহাম্মদ ইউসুফ নামে এক ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস।

জানা গেছে, প্রায় দুই যুগ ধরে ওএমএস’র চাল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে বেশি দামে বিক্রি করে নিম্নমানের পচা-পোকাযুক্ত চাল দরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করছিলেন এই ডিলার। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অভাবে বারবার পার পেয়ে গেছেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে ধরা পড়ে ডিলারশিপ হারিয়েছেন ইউসুফ নামের এই ডিলার।

রোববার (২১ জুন) উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোণাধন ত্রিপুরা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে হাটহাজারীর ওএমএস’র ডিলার মোহাম্মদ ইউসুফের ডিলারশিপ বাতিলের বিষয়ে জানানো হয়।

জানা গেছে, সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি ওএমএসের ১০ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে হাটহাজারীর বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কয়েকদিন ধরে ওএমএসের নামে পচা-পোকাযুক্ত চাল দরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রির বেশ কয়েকটি অভিযোগ যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে। এর পরপরই ঘটনার অনুসন্ধানে নামেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডিলারের গুদাম এবং স্থানীয় মুদি দোকান থেকে জব্দ করা হয় ৯৭ বস্তা সরকারি চাল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ ওই ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস।

নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘১০ টাকা কেজি দরে দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারিভাবে যেসব চাল দেয়া হয় সেগুলো মানসম্মত চাল এবং গুণগত মানও খুব ভালো। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিম পাড়ায় ইউসুফ নামে এক ডিলার এ কর্মসূচির চাল বিক্রি করেন। গতমাসে চাল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উপকারভোগী সবাই সরকারের সমালোচনা শুরু করেন, কারণ চালের মান খুবই নিম্নমানের। চাল ছিল পচা এবং পোকাযুক্ত।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘ঘটনাটি আমাকে জানানো হলে আমি রীতিমতো হতভম্ব। আমি সবাইকে বললাম ছবি তুলে রাখার জন্য। কী করব বুঝতেছিলাম না। জানতে চাইলে যথারীতি ডিলার উল্টো চাল পচা হওয়ার নানা অজুহাত দাঁড় করালেন। ডিলার নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করলেন, যেন সব দোষ চালের। চাল নিজে নিজেই পচে গেছে, এর সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই। হাতেনাতে প্রমাণ নাই, তাই কিছুই করা যাচ্ছিল না। তবে ঘটনার সঙ্গে লেগে থাকলাম, অনেককে বললাম তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে। কিন্তু কেউই তথ্য দিলেন না। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে একটি মুদি দোকান ও ডিলারের গুদাম থেকে জব্দ করা হয় ৯৭ বস্তা সরকারি চাল।

রুহুল আমিন বলেন, ‘এ ডিলার দীর্ঘ দুই যুগ ধরে এই অপকর্ম করে আসছে। তিনি সরকারি ভালো চালগুলো বিক্রি করে কম দামে পচা ও পোকযুক্ত চাল কিনে তা সরকারি চাল হিসেবে দরিদ্র মানুষের কাছে বিক্রি করছিলেন।’

ইউএনও বলেন, অভিযুক্ত ডিলার সরকারি গুদাম থেকে ভালো চাল বের করে যে স্থানে বিক্রি করবেন সেখানে যাওয়ার পথেই স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। একই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পচা-নিম্নমানের চাল নিয়ে দরিদ্র মানুষের কাছে সরকারি চাল হিসেবে বিক্রি করেন। এতে একদিকে জনগণের কাছে সরকারের দুর্নাম করার পাশাপাশি মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন এই ডিলার।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24