সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
করোনা দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছেন নারীরা

করোনা দুর্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছেন নারীরা

শর্মা লুনা: বিশ্বে এ পর্যন্ত যত ধরণের দুর্যোগ যেমন যুদ্ধ, মহামারী, ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, মাইগ্রেশন ইত্যাদি হয়েছে, সবকিছুতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ছিল নারী। নারীকে এই ঝুঁকির মুখোমুখি মূলত অসচেতনতা ও অসমতায়নের কারণেই হতে হয়েছে। সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থেকেও লড়াই করে যেতে হয়েছে এবং টিকে থাকতে হয়েছে নারীকে। একারণেই নারীর মৃত্যুহার কম, বেঁচে থাকার গড় বয়স বেশি, এবং প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি বিশ্বজুড়ে, দেশে দেশে। কিন্তু এসব দুর্যোগে অকাতরে মৃত্যু বরণ করেছেও নারীরা সবচেয়ে বেশি। কেননা এরকম জটিল সময়ে নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বিপন্ন অবস্থায় থাকে।

করোনা দুর্যোগে নারীরাই ভুগবে বেশি

বিশেষজ্ঞদের মতে করোনার মত মহামারীতে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকবে নারী। অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল জার্নাল The Lancet এ  COVID-19 মহামারীর জেন্ডার ইমপ্যাক্ট নিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে। প্রবন্ধে বলা হয়েছে এপর্যন্ত বিশ্বে যতগুলো মহামারী হয়েছে, তার জন্য সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে নারীকে। ২০১৪-১৬ তে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলায় নারীকেই রোগীর সেবা করতে হয়েছে বেশি, সেটা পেইড বা আনপেইড দুই ক্ষেত্রেই। ফলে ভাইরাসে আক্রান্তও হয়েছে নারীরাই বেশি।

নারীরা শুধু আক্রান্ত হয়েই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্নভাবে

চীনের ৯০ ভাগ স্বাস্থ্য কর্মীরাই নারী। ফলে করোনা দুর্যোগে  পুরুষের চেয়ে সেখানে নারীর ঝুঁকি বেশি। এমনকি নারী স্বাস্থ্য কর্মীদের বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তার হারও বাড়ছে, বলছেন গবেষকরা। অস্ট্রেলিয়ায় ও একই পরিস্থিতি। সেদেশের হেলথ কেয়ার ও সোশ্যাল অ্যাসিসটেন্স সেক্টরে নারী কর্মী শতকরা ৭৯.৯ ভাগ। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হিসাব অনুযায়ী, সে দেশে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নারী ৭৬ শতাংশ। আমাদের দেশেও এই সংখ্যা প্রায় একই রকম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আশংকা করা হচ্ছে, এই ভাইরাসে পুরুষের চেয়ে নারীর আক্রান্তের হারও এসব কারণে বেশি হবে।

অর্থনৈতিকভাবে নারী পুরুষের চেয়ে দুর্বল। ফলে কোভিড-১৯ এ নারী আক্রান্তও হবে বেশি। কারণ ভাইরাস থেকে বাঁচতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া অনেকক্ষেত্রেই সম্ভব হবে না অর্থনৈতিক কারণে। করোনা নারী পুরুষ নির্বিশেষে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বলদের চাপে ফেলে দেবে।

শ্রমজীবী ও গৃহিনী নারীদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক

কর্পোরেট, সাহায্য সংস্থা, স্কুল-কলেজ নিদেনপক্ষে সরকারী-বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মজীবী নাহয় মহামারীর সময় ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন। কিন্তু শ্রমজীবী নারী যারা গার্মেন্টস, কলকারখানা ও মজুর হিসেবে বাইরে কাজ করেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এরা বাইরে না বের হলে চাকরি হারাবেন বা অর্থ উপার্জন করতে পারবেন না। ফলে এরা বাইরে বের হলে অর্থনৈতিকভাবেও দুর্বল হয়ে পরবেন।

তাছাড়া একেতো নারীর গৃহস্থালি কাজ কখনই পারিশ্রমিক পায়না, তার উপর করোনার মত দুর্যোগে স্কুল-কলেজ বন্ধ হবার ফলে শিশু-কিশোররাও ঘরে বেশি সময় ধরে অবস্থান করবে। পুরুষরা যদি সন্তানদের দেখাশোনা সহ সব ধরণের গৃহস্থালি কাজে সহায়তা না করেন, নারীদের উপর বাড়বে তখন আরও পারিশ্রমিক বিহীন কাজের বোঝা।   আমেরিকায় চলতি বছর জানুয়ারিতে করা এক জরিপ বলছে, ঘরে শিশুর যত্ন নেয়ার কাজ পুরুষের চেয়ে নারী সাত গুন বেশি করেন, এধরণের দুর্যোগে সেটা দাঁড়াবে দশগুণে। এছাড়া তাঁরা পুরুষের তুলনায় ৫০ শতাংশ সময়’বেশি দেন।

কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কাজ করে এলিভেট নেটওয়ার্ক নামের একটি  সংস্থা । এর প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টি ওয়ালেস বলেন,

‘একটি পরিবারে নারীদের সাধারণত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, প্রধান বিনোদন কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা—এই তিন ধরনের কাজই করতে হয়। সংকটকালে যখন আমরা কী করব বুঝে উঠতে পারি না এবং আতঙ্কগ্রস্ত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি, তখন এতগুলো ভূমিকা পালন করা নারীদের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে।’

বিশ্বব্যাপী মহামারির ইতিহাস জানলে বোঝা যাবে, মহামারীর সময় পৃথিবী হয়ে ওঠে আরও বেশি বৈষম্যময়, বিশেষত পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে ওঠে নারীর জন্য। একারণে রোগের প্রাদুর্ভাব এবং লড়াইও জটিল হয়ে ওঠে সকলের জন্য।

পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলেও আমাদের দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক মনন বলে শুধু নারীকেই মূলত সেবা দিতে এগিয়ে যেতে হবে আগে। ফলে স্বেচ্ছায় আমরা হয়তো ঘরের সবচেয়ে করিতকর্মা মানুষটিকেই করোনার মত সংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে ফেলে দেবো অসচেতনভাবে।

এর মধ্যে ভাল খবর হল, নারীর মৃত্যুর হার পুরুষের তুলনায় কম করোনা ভাইরাসে এখনও। হিউম্যান জিনোমিকস জার্নালের একটি গবেষণা পত্র অনুযায়ী, নারীর শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে, পুরুষের থাকে একটি। তাই নারীর রোগ প্রতিরোধের জিন বেশি থাকায় পুরুষের তুলনায় রোগ প্রতিরোধ্মূলক প্রক্রিয়া কিছুটা ভাল। এছাড়া নারীদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় ধূমপান, মাদকাসক্ত ও মদ্যপানে আসক্ত হবার হার কম থাকায় নারীদের শাসকষ্ট, ফুসফুস, কন্ঠনালী, ডাইবেটিস, রক্তচাপজনিত সমস্যাও কম থাকে। ফলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নারীদের তুলনায় এসব পূর্বাবস্থা থাকায় পুরুষদের মৃত্যুর হার চীন ও ইটালিতে বেশি হয়েছে। মোট মৃতের মধ্যে পুরুষের হার ৭০ ভাগ ইতালিতে, চীনে ৬৪ শতাংশ এবং দক্ষিন কোরিয়ায় ৫৪ শতাংশ।

কিন্তু করোনা বা যেকোন মহামারির সাথে লড়তে গিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় নারীরাই বেশি। ফলে তাঁর প্রভাব সার্বিকভাবে পড়ে রোগের বিস্তার ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনায়। তাই করোনা দুর্যোগে অন্তত সবকিছু ভুলে সবাইকে সমানভাবে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। ঘরে থাকার এই দিনগুলোতে পুরুষকেও গৃহস্থালি কাজকর্মে অংশ নিতে হবে। কেউ আক্রান্ত হলে শুধু নারীকেই যেন সেবা দিতে এগিয়ে যেতে না হয়। যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে হবে উভয়কেই। নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও নজর রাখতে হবে।  মানুষ হিসেবে এই কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হবে উভয়কে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো, রাইজিং বিডি, ফেমিনিস্ট ফর অল, কালের কন্ঠ। 

এজেড নিউজবিডি ২৪/ মনি

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24