সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য স্ট্রেচার বাণিজ্য, কালোবাজারে ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। রোগীদের সেবায় বিনামূল্যে সরবরাহকৃত গজ-ব্যান্ডেজ এবার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের অসহায়, গরিব রোগীরা স্বল্প ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতে হাসপাতালে ছুটে এলেও এক শ্রেণীর অসাধু কর্মচারী ও দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছে। রংপুর নগরীর হনুমান তলা এলাকার ব্যবসায়ী আবু বক্কর মিয়া জানান, তার কর্মচারী সোলেমান মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর ওয়ার্ডে নিয়ে আসতে স্ট্রেচার বাবদ তাকে একশ টাকা দিতে হয়েছে। এরপর ডেসিং করার জন্য গজ-ব্যান্ডেজ বাবদ ১ হাজার টাকা দাবি করেন সেখানকার কয়েকজন কর্মচারী। একপর্যায়ে তিনি তাদের ৩শ’ টাকা দিতে বাধ্য হন।

টাকা দাবি করা ওয়ার্ডবয় জুয়েল ও মমিনুল জানান, আমরা চা-পান খাওয়ার জন্য চেয়েছি, অন্যকিছু না। ড্রেসিং করার জন্য হাসপাতালের কোনো নির্ধারিত ফি আছে কি না জানতে চাইলে তারা দু’জনেই বলেন, ফি কেন থাকবে, সবাই দেন। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কর্মচারীরা টাকার বিনিময়ে রোগীদের কাছে ওষুধও বিক্রি করেন।

এছাড়া রাতে কোনো রোগী ভর্তি হলে ওষুধ বাণিজ্য আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলার পর রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দালাল ও হাসপাতালের কর্মচারীরা যুক্ত হয়ে দোকানে যান। পথে ওই রোগীর স্বজনকে নানাভাবে বুঝিয়ে আগে থেকে ঠিক করা দোকানে গিয়ে বেশি দামে ওষুধ কিনে নিয়ে আসেন তারা। পরে ওই টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। এরও সত্যতা মেলে আবুল হোসেন নামে এক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা বলে। তিনি জানান, এক দালাল কর্মচারীর খপ্পরে পড়ে ৬ হাজার টাকার ওষুধ ৮ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে তাদের। বহিরাগত দালাদের দৌরাত্ম্য কমলেও হাসপাতালের ভেতরে কর্মচারী দালালদের দৌরাত্ম্য কমছে না।

এদের খপ্পরে পড়ে পদে পদে টাকা গুনতে হচ্ছে রোগীদের। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্ট্রেচারে করে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হলে যেমন টাকা দিতে হয় তেমনি মেঝে থেকে বিছানায় তুলে দিতেও তাদের উৎকোচ দিতে হয়। গজ-ব্যান্ডেজ বিক্রির বিষয়ে জানতে নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান বলেন, রোগীদের সব কথা তো শোনা যায় না। আমরা না থাকলে অনেক সময় রোগীরা তাদের নিজ ইচ্ছায় দেন, পরে হয়তো অভিযোগ করেন।

তবে এমন ঘটনা হয়তো দুই-একটা ঘটে- তা স্বীকার করে তিনি বলেন, সাধারণত বড় ধরনের ড্রেসিংগুলো সিস্টার বা আমরা চিকিৎসকরাই করে থাকি। আমরা ওয়ার্ডে থাকলে হয়তো এমনটা ঘটে না। এছাড়া ওই কর্মচারীরা সরাসরি পরিচালকের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আমরা চাইলেও তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ বা তাদের বদলি করতে পারি না। তাই এ বিষয়ে কথা বলতে পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24