রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ১০:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
৪ লাখ ট্যাবে শুমারি, ২০ হাজার স্পট থেকে ছিন্নমূলের তথ্য সংগ্রহ

৪ লাখ ট্যাবে শুমারি, ২০ হাজার স্পট থেকে ছিন্নমূলের তথ্য সংগ্রহ

অনলাইন ডেস্কঃ দেশের প্রায় ২০ হাজার স্পট থেকে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ গণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে ষষ্ঠ জনশুমারি। মঙ্গলবার (১৪ জুন) দিনগত রাত ১২টা থেকে বুধবার (১৫ জুন) ভোর ৬টা পর্যন্ত ভাসমান মানুষ গণনা করা হয়। এরপর সকাল ৮টা থেকে জনশুমারির মূল কাজ শুরু হয়, যা আগামী ২১ জুন শেষ হবে।

সারাদেশে একযোগে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন গণনাকারী ট্যাবের সাহায্যে সাতদিন ধরে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই শুমারি পরিচালনা করছেন। ৬৩ হাজার ৫৪৮ জন সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন আইটি সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন জোনাল অফিসার, ১৬৩ জন জেলা শুমারি ও ১২ জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বকারীর মাধ্যমে এই ডিজিটাল শুমারি সম্পন্ন করা হচ্ছে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ প্রকল্পের আওতায় ১৫-২১ জুন দেশের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গণনাকারীগণ দেশের প্রতিটি খানায় গিয়ে ট্যাবলেটের মাধ্যমে কম্পিউটার-অ্যাসিস্টেট পার্সোনাল ইন্টারভিউজ বা কম্পিউটারের সহায়তায় ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার (কাপি) পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৭ জুন সন্ধ্যা ৭টায় জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেন।

প্রকল্পের পরিচালক মো. দিলদার হোসেন বলেন, জনশুমারির প্রধান উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে রয়েছে- দেশের প্রতিটি খানা ও খানার সদস্যদের গণনা করে মোট জনসংখ্যার হিসাব নিরূপণ, দেশের সব বসতঘর বা বাসগৃহের সংখ্যা নিরূপণ, দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের নিমিত্তে তথ্য সরবরাহ ও জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তথ্য সরবরাহ করা।

এ জনশুমারির মাধ্যমে দেশের সব সাধারণ খানা, প্রাতিষ্ঠানিক খানা ও বস্তিখানা, ভাসমান বা ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, খানার বাসগৃহের সংখ্যা ও ধরন, বাসগৃহের মালিকানা, খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেট সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বৈদেশিক রেমিট্যান্স ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এছাড়াও গণনাকারীরা খানায় বসবাসরত সদস্যদের জনতাত্ত্বিক ও আর্থসামাজিক তথ্য যেমন- বয়স, লিঙ্গ, খানাপ্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, প্রতিবন্ধকতা, শিক্ষা, কর্ম, প্রশিক্ষণ, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, জাতীয়তা, নিজ জেলা ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

প্রকল্পের গণনাকারীরা নির্ধারিত গণনা এলাকার প্রতিটি বাসগৃহ, খানা ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করবেন। ডিজিটাল এ শুমারি বাস্তবায়নে সারাদেশে একযোগে তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহার হচ্ছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত ট্যাবলেটসমূহ মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট (এমডিএম) সফটওয়্যার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এছাড়া এমডিএমের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম রিয়েল টাইমে মনিটর করা হচ্ছে। সর্বোপরি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ফলে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ সহজতর হবে ও স্বল্পতম সময়ে শুমারির প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

মূল শুমারির প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে ১ম, ২য় ও ৩য় জোনাল অপারেশন সম্পাদন করা হয়েছে। শুমারির তথ্য সংগ্রহের জন্য গড়ে ১০০টি খানা নিয়ে একটি গণনা এলাকা গঠন করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি গণনা এলাকার জন্য একজন গণনাকারী এবং ৫-৬ জন গণনাকারীর জন্য একজন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা স্থানীয় শিক্ষিত যুবক বা যুব মহিলা।

গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের (গড়ে ১২০ জন) কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন জোনাল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য দপ্তরের নিয়মিত কর্মচারী।

জোনাল অফিসারদের কার্যক্রম তদারকির জন্য উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারী, উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারীর কার্যক্রম তদারকির জন্য জেলা শুমারি সমন্বয়কারী, জেলা শুমারি সমন্বয়কারীর কার্যক্রম তদারকির জন্য বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সব পর্যায়ের সমন্বয়কারীরা বিবিএসের সদর দপ্তর ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা। অর্থাৎ শুমারির গুণগতমান নিশ্চিতকল্পে ছয় স্তর বিশিষ্ট মনিটরিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের নিমিত্তে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড (বিডিসিসিএল) ও বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আইটি জনবলকে এ শুমারির কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

শুমারির তথ্য-উপাত্তের গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন ধাপে চারদিন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে, মনিটরিং কর্মকর্তা ও মাস্টার ট্রেইনারদের (বিভাগীয় ও জেলা শুমারি সমন্বয়কারী) প্রশিক্ষণ বিবিএস সদর দপ্তরে, দ্বিতীয় ধাপে, উপজেলা শুমারি সমন্বয়কারী, জোনাল অফিসার ও আইসিটি সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ জেলা পর্যায়ে এবং তৃতীয় ধাপে, গণনাকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দুই পর্বে জোন পর্যায়ে (উপজেলা/পৌরসভা/ইউনিয়ন/ওয়ার্ড) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এছাড়াও বিবিএস সদর দপ্তরে শুমারির একটি কল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে যা গত ৩০ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। কল সেন্টারের নম্বর ০৯৬০২৯৯৮৮৭৭। কল সেন্টারে ফোন করে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি শুমারিতে নিয়োজিত বিভিন্ন স্তরের কর্মীগণ কারিগরি ও সাধারণ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24