সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: নিহত মাসুদের পরিবারকে ইউএনও’র ১ লাখ টাকা অনুদান

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: নিহত মাসুদের পরিবারকে ইউএনও’র ১ লাখ টাকা অনুদান

অনলাইন ডেস্কঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত মাসুমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউপির বয়সিং গোপীনাথপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। নিহতের শোকে বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে দুপুরে তার পরিবারের হাতে ইউএনও উপমা ফারিসা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন আনতে অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে জীবন হারালেন মাসুদ মিয়া। মাসুদের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউপির বয়সিং গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের ছেলে।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

জানা যায়, কৃষকদম্পতি খলিলুর রহমান ও জমেলা বেগমের তিন ছেলের মধ্যে সবার বড় ছিলেন মাসুদ মিয়া। পড়াশোনায় মাধ্যমিক পেরোতে পারেননি, ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য পাড়ি জমান সৌদি আরবে। ৫ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে আসেন। এরপর ২০১৫ সালের দিকে নতুন কর্মসংস্থানের জন্য ছুটে যান বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। এরপর সীতাকুণ্ডের কনটেইনার ডিপোর একটি কোম্পানিতে গাড়িচালকের চাকরি নেন। সেখানে তিনি এক সপ্তাহ দিনে এবং পরের সপ্তাহ রাতে ডিউটি করতেন। শনিবার রাতে সংঘটিত বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তিনি মারা যান।

নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার জানান, মাসুদ ১০ বছর আগে বিয়ে করেন। তার ২ বছর বয়সী একটা ছেলে এবং ৭ বছর বয়সী একটা কন্যাসন্তান রয়েছে। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তিনি সীতাকুণ্ডে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিস্ফোরণের রাতেই তার নাইট ডিউটির সাপ্তাহিক শেষদিন ছিলো। বিস্ফোরণের পর তার সঙ্গে একবার কথা হয়, এরপর থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরো জানান, স্বামীছাড়া দুই অবুঝ শিশুর লালনপালনসহ সামনের দিনগুলো কীভাবে তার কাটবে, সেই চিন্তায় দুচোখে অন্ধকার দেখছেন।

নিহতের মা জমিলা বেগম বিলাপ করে বলেন, ‘আমার বাবারে কেউ আইনা দেও, আমি দেখমু। বাবা তো আর আমারে মা মা কইরা ডাকবো না, বাবা তো আর টেহা পাঠাবো না।’

নিহতের চাচা মোজাম্মেল হোসেন জানান, বিস্ফোরণের রাতেই নাকি মাসুদের নাইট ডিউটির সাপ্তাহিক শেষদিন ছিলো। কে জানতো ওই রাতটাই তার জীবনের শেষ ডিউটি! মাসুদ পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ার তার মৃত্যুতে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেলো।

ভাটারা ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বাদল জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে মাসুদের লাশ নিজবাড়িতে পৌঁছে। সকাল ৮টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

ইউএনও উপমা ফারিসা জানান, নিহত মাসুদ মিয়ার পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান বরাদ্দ করেছে। এরই মধ্যেই নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা ও অনুদানের টাকা তুলে দেয়া হয়েছে। পরিবারটির যেকোনো প্রয়োজনে প্রশাসন সহায়তা করবে।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24