সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
নারীর ক্ষমতায়ন-শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ বেড়েছে ১০০ কোটি

নারীর ক্ষমতায়ন-শিশু উন্নয়নে বরাদ্দ বেড়েছে ১০০ কোটি

অনলাইন ডেস্কঃ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য চার হাজার ২৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এই খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ১০০ কোটি টাকা। নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশু কল্যাণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী বাজেটে পাঁচটি ব্যয়খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে, দুঃস্থ মাতাদের খাদ্য সহায়তা (ভিজিডি) কর্মসূচি, জীবন-চক্রভিত্তিক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড বেনিফিট প্রোগ্রাম, শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও কিশোর-কিশোরীদের ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, নারীদের জন্য কারিগরি, বৃত্তিমূলক, আয়বর্ধক ও উৎপাদনশীল প্রশিক্ষণ ও নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ ও আইনগত সহায়তা দেওয়া।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য জানান। আগামী অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে জাতীয় বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা জেন্ডার সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। ফলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ সূচকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে ভালো অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।

বৈশ্বিক লিঙ্গ বৈষম্য প্রতিবেদন-২০২১ অনুযায়ী বিশ্বে জেন্ডার বৈষম্য সূচকে ১৫৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৫। এটি সামগ্রিকভাবে সরকারের নারী উন্নয়ন ও জেন্ডার বৈষম্য নিরসনে সফলতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও সুবিধাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান সন্তোষজনক পর্যায়ে নেয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বিশেষ করে প্রফেশনাল ও কারিগরি ক্ষেত্রে যুবা নারীদের দক্ষতা উন্নয়নকে আমরা আগামী বাজেটে গুরুত্ব দেব। এছাড়া, জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফলপ্রসূ ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল গ্রহণ, জেন্ডার ইস্যুটি মূল স্রোতধারায় আনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবল বরাদ্দ ও প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল বৃদ্ধি ইত্যাদি কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবো।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নারীর মানবিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুবিধা বৃদ্ধি, নারীর কণ্ঠস্বর ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীদের জন্য অবকাঠামো ও যোগাযোগ পরিষেবা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার।

যেমন: ‘তথ্য আপা’ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন, কিশোর কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টি সেক্টরাল প্রোগ্রাম, উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ প্রকল্প, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশ সাধন ও `জয়িতা` টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।

এসব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার বৈষম্য নিরসনে ও কিশোর-কিশোরীদের মানবিক বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। গ্রামীণ দুঃস্থ ও অসহায় নারীদের ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করার জন্য ক্ষুদ্রঋণ তহবিল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রাপ্ত বরাদ্দ দ্বারা ঘূর্ণায়মান আকারে ৬৪টি জেলার ৪৮৮টি উপজেলায় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলছে।

বাজেট বক্তব্যে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ও তাদের সামগ্রিক উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ করা, খাদ্য ও পুষ্টির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অভিগম্যতা নিশ্চিত করা ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় ক্ষেত্রে আমরা আগামী বাজেটেও গুরুত্ব দেবো।

কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যকৌশল বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় পুষ্টি-সংবেদনশীল পদ্ধতি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে শিশুসহ দরিদ্র পরিবারগুলোর অগ্রাধিকারের বিষয়টি আমরা বিবেচনায় রাখছি। ইতোপূর্বে প্রণীত ‘বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭, ‘২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন-২০২০’এর কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়া, নারী শ্রমিকের শিশুদের দিবাকালীন পরিচর্যা ও নিরাপত্তার নিমিত্ত ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১’ প্রণীত হয়েছে এবং এরই মধ্যে দেশের ৬,১৬০টি শিল্প-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের আকার হচ্ছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, তেমনি এ বাজেটে ঘাটতিও ধরা হয়েছে বড়।

অনুদান বাদে এই বাজেটের ঘাটতি দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির সাড়ে ৫ শতাংশের সমান। আর অনুদানসহ বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দুই লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের সমান।

এটি বর্তমান সরকারের ২৩তম এবং বাংলাদেশের ৫১তম ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীর চতুর্থ বাজেট। বাজেটে সঙ্গত কারণেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কৃষিখাত, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ, কর্মসংস্থান ও শিক্ষাসহ বেশকিছু খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24