সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
নারীর উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়া উচিত

নারীর উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়া উচিত

নাজনীন আহমেদ, কান্ট্রি ইকোনমিস্ট, ইউএনডিপি

আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট। নারীর উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দে কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাওয়া উচিত? মত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেন্ডার বাজেটকে আরও সংবেদনশীল করতে হবে

সায়েমা হক, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

গত অর্থবছরে আমাদের ছোট ছোট কর্মপরিকল্পনা ছিল। তবে চাহিদার তুলনায়, অর্থাৎ অর্ধেক জনগোষ্ঠী বিবেচনায় উদ্যোগগুলো যথেষ্ট নয়, একেবারেই অপ্রতুল। বাজেট বরাদ্দে নারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে দুস্থ নারীদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন কর ছাড়সহ বিশেষ কিছু সুবিধা থাকা দরকার।

যেসব প্রতিষ্ঠান নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, তাদের জন্য সরকার বিশেষ কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে পারে। অর্থাৎ, নারীদের জন্য কাজ ও কাজের বাইরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে পারে। তাদের শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে।

সায়েমা হক, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে বাল্যবিবাহ, নিরাপত্তার অভাব, সঠিক কর্মপরিবেশের অভাব অন্যতম। এই তিন বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও বরাদ্দ থাকা দরকার। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা গেলে নারীরাই অধিকাংশ সুবিধা পাবেন। এ বিষয়গুলোই মূলত গোড়ার বিষয়। গোড়ার বিষয় পরিবর্তন না করলে আমরা বড় পরিবর্তন দেখব না।

বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগের কথা বলা থাকলেও আমরা কিন্তু কাগজে–কলমে এর প্রতিফলন দেখি না। আমাদের চাহিদার তুলনায় উদ্যোগগুলো অপ্রতুল। সে জায়গাগুলোতে বরাদ্দ ও কর্মপরিকল্পনা ব্যাপক হারে বাড়ানো দরকার। জেন্ডার বাজেট হওয়ার পাশাপাশি সেই বাজেট কতটা অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছে, তার পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন দরকার। জেন্ডার বাজেটকে আরও সংবেদনশীল করতে হবে। মেয়েশিশু ও ছেলেশিশুর মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্য কাজ করবে, এমন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।

জেন্ডার বাজেট বা জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট নারীর জন্য পৃথক বাজেট নয়। নারী ও পুরুষের ওপর বাজেটের যে পৃথক প্রভাব এবং নারী-পুরুষের চাহিদার যে ভিন্নতা, তাকে আমলে নিয়ে বাজেট বরাদ্দকে বোঝায়।

মূল্য সংযোজন কর ৫ শতাংশ করতে হবে

মৌসুমী ইসলাম, সভাপতি, তৃণমূল নারী শিল্প উদ্যোক্তা সমিতি, বাংলাদেশ

আসন্ন বাজেটে নারীদের জন্য ব্যক্তিগত আয়করসীমা সাড়ে তিন লাখ থেকে বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বার্ষিক আয়করসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৭০ লাখ টাকা। এর পরিমাণ এক কোটি টাকা করা হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নারী উদ্যোক্তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে। নতুন যেসব শিল্পোদ্যোক্তা ব্যবসা করছেন, তাঁদের যদি ব্যবসা শুরুর প্রথম তিন বছর করের আওতার বাইরে রাখা হয়, তবে তাঁরা ব্যবসার উন্নতি করতে পারবেন।

মৌসুমী ইসলাম, সভাপতি, তৃণমূল নারী শিল্প উদ্যোক্তা সমিতি, বাংলাদেশ

এ ছাড়া করোনার কারণে অনেক ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নারী উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমান আইনে মূল্য সংযোজন কর হার ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই করের পরিমাণ কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হলে ব্যবসায়ীরা তাঁদের ব্যবসায় উন্নতি করতে পারবেন এবং ট্রেড লাইসেন্স ফি যদি ৫০ শতাংশ কমানো হয়, অর্থাৎ অর্ধেক করা হয়, তবে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হবেন।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24