সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
কেউ লাশ পেয়ে কান্না করছেন, কেউ না পেয়ে

কেউ লাশ পেয়ে কান্না করছেন, কেউ না পেয়ে

অনলাইন ডেস্কঃ একটু পরপর অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। কোনো অ্যাম্বুলেন্সে একটি আবার কোনোটিতে দুটি মরদেহ। অ্যাম্বুলেন্স আসার সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীরা ছুটে গিয়ে সেগুলো নিয়ে যাচ্ছেন।

হাসপাতালের মর্গের সামনে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। তাদের মধ্যে স্বজনদের সংখ্যা বেশি। কেউ খোঁজ নিতে এসেছেন, কেউ পেয়েছেন স্বজনের মরদেহ। কেউ মরদেহ পেয়ে কান্না করছেন, কেউ আবার না পেয়ে।

ফাতেমা আক্তারের বাবা ফারুক (৫০) কাজ করতেন সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় কথা হয় বাবার সঙ্গে। এরপর আর কথা হয়নি। সীতাকুণ্ডসহ কয়েকটি জায়গায় খোঁজ নিয়েও পাননি বাবাকে।

আরও পড়ুন : আমি মারা যাচ্ছি বাবা, আমাকে মাফ করে দিও

ঢাকা পোস্টকে ফাতেমা বলেন, বাবা শনিবার কাজে যোগ দেন। আগুন লাগার সংবাদ পাওয়ার পর থেকে বাবার ফোনে কল দিচ্ছি। কিন্তু মোবাইল বন্ধ পাচ্ছি। রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, সেখানেও তার খোঁজ পাইনি। সকাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে খুঁজছি কিন্তু কোনো সন্ধান পাইনি। আপনারা আমার বাবাকে খুঁজে দেন, বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাতেমা।

একই অবস্থা নুরুল কাদেরের। ডিপোয় আগুন লাগার খবর পেয়ে শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে আসেন। এরপর থেকে তার খোঁজ মিলছে না। বন্ধ রয়েছে সেলফোনও। এ অবস্থায় তার জীবিত থাকা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্বজনরা।

ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে নুরুল কাদেরের ফুফাত ভাই মনির হোসেন বলেন, রাতে যখন নুরুলের সঙ্গে কথা হয় তখন সে বলেছিল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছে। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার সন্ধানে রাতেই ঘটনাস্থলে আসি। কিন্তু ডিপো এলাকায় তাকে পাইনি। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নেই। কিন্তু সেখানেও তাকে না পেয়ে চট্টগ্রামের অন্য সব বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছি। এখনো তাকে পাইনি।

রোববার সকাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। দুর্ঘটনায় তাদের কারো মাথায় আঘাত লেগেছে, কারো আবার দুই হাতই ঝলসে গেছে। আরেকজনের পেটের এক পাশ ভেতরে ঢুকে গেছে। আহত ব্যক্তিদের আর্তনাদ আর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে গেছে মেডিকেলের বার্ন ইউনিট।

স্বজনদের একজন তাহের উদ্দিন। তার চাচাত ভাই রফিক উদ্দিনের দুই হাত এবং মাথায় ব্যান্ডেজ লাগানো। তিনি বলেন, ঘটনার পর ভাইয়ের ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি। এরপর ভাইকে ফোন দিয়ে না পেয়ে সীতাকুণ্ডে চলে আসি। সেখানেও না পেয়ে মেডিকেল এসে জানতে পারি তিনি ৩৬নং ওয়ার্ডে ভর্তি। এরপর বাড়িতে খবর দেই।

মেডিকেলের ৩৬নং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স সোমা দাস  বলেন, এখন পর্যন্ত ৯৩ জনের লিস্ট আছে আমার কাছে। সবাই কম-বেশি আঘাতপ্রাপ্ত। তাদের সেবা চলছে। এত রোগী একসঙ্গে আর কখনো দেখিনি আমি।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24