বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির পদ পেতে দৌড়ঝাপ

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির পদ পেতে দৌড়ঝাপ

অনলাইন ডেস্কঃ সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির পদ পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন নেতারা। সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। কে হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক এনিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে আলোচনা। নানা হিসেবনিকেশ ও মেরুকরণও চলছে পদপ্রত্যাশী এসকল নেতাদের নিয়ে। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন নানামূখি তৎপরতায়। আর পদপ্রত্যাশী নেতৃবৃন্দ ব্যাপক দৌড়ঝাপ চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে।

একজন আরেকজনকে ঘায়েল করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে করছেন অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। জেলা বিএনপির কমিটি গঠন লক্ষে উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তৃনমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের সুত্রে জানা গেছে, জেলার শীর্ষ দুটি পদে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মনোনীতদেরই ঠাই হবে। এজন্য তারা তারেক রহমানের গুডবুকে নাম লেখাতে চেষ্টা করছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে অনেকের নাম। সভাপতি পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি রোমানা মাহমুদ, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারন সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান, জেলা বিএনপির বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নুর কায়েম সবুজ। তবে সভাপতি পদে রোমানা মাহমুদ ও সাধারন সম্পাদক পদে মির্জা মোস্তফা জামানের নাম আলোচিত বেশি হচ্ছে। এই দুজনই আগামী কমিটিতে নেতৃত্বে আসবেন বলে অধিকাংশ নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান ক্লীন ইমেজের নেতা। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সকল মহলে প্রশংসিত। তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে তার অনেক সুনাম রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। তার বাবা সিরাজগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মির্জা মোরাদুজ্জামান।

আর রোমানা মাহমুদ সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সহধর্মিনী। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা সবাই দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা। আন্দোলন সংগ্রামে তাদের অবদান রয়েছে। একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামী ও কারা বরন করেছেন। এরশাদ সরকার পতন আন্দোলনে তারা নেতৃত্ব দিয়েছেন। পদে জন্য একাধিক নেতা লড়াই করলেও সবাই তাকিয়ে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে।

আন্দেলন ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখা। দলের প্রতি যাদের আনুগত্য রয়েছে তাদেরকে দিয়েই আগামীদিনের কমিটি হবে এমনটিই প্রত্যাশা করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

তবে বর্তমান জেলা বিএনপির অনেক নেতার বিরুদ্ধে কমিটি বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রীড নেতাদের কমিটিতে স্থান দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি গঠন করতে অর্থ লেনদেন করা হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে জানেন বলে তৃণমূল নেতারা জানিয়েছেন। এজন্য আগামী কমিটিতে দলের ত্যাগী ও স্বচ্ছ নেতাদের স্থান দেয়ার দাবী তৃনমূল নেতাদের।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, আন্দেলন ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছি। আগামীতেও কাজ করতে চাই। জেলা বিএনপিতে কে নেতৃত্বে আসবেন তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভালো জানেন। তিনি যদি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক পদে আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেন আমি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবো। তারেক রহমান যে কমিটি উপহার দেবেন আমি তা মাথা পেতে নেবো।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম খান বলেন, ২২ বছর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। দলকে সুসংগঠিত করেছি। তৃনমুল নেতাকের্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করেছি। সবাই আমাকে চেনে ও জানে। একারনে নেতাকর্মীরা আমাকে চাইতে পারে। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় তাহলে কাজ করে যাবো। তবে আমি কারো সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো না।

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আকবর আলী বলেন, দীর্ঘদিন দলের সাথে আছি। আন্দোলন করেছি জেলেও গিয়েছি। তবে আগের দলের সাথে এখনকার দলের তুলনা হয় না। বর্তমানে জেলা বিএনপির অনেক নেতাই বিতর্কিক। তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে। তারা বিকাশ নেতা হিসেবে পরিচিত। তাদের সাথে রাজনীতি করা যায় না। দলের স্বচ্ছ ও ত্যাগি নেতাদের দায়িত্ব দিলে দল গতিশীল হবে। আন্দোলন সফল হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির ৩৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। পরবর্তীতে পুর্নাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24