বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
দুই সন্তানকে নিয়ে শঙ্কায় আব্দুল কাদের

দুই সন্তানকে নিয়ে শঙ্কায় আব্দুল কাদের

অনলাইন ডেস্কঃ সংসারের খরচ জোগাতেই হিমশিম খান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদের। টানাপোড়েনের সংসারে জন্ম হয় জান্নাতুল ফেরদৌসের (৪)। মা-বাবার মন যেখানে আনন্দে উদ্বেলিত হওয়ার কথা, সেখানে শঙ্কা-অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েন তারা। কারণ সন্তান জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী।

তিন সন্তানের মধ্যে বড় নাবিল (১০)। সেও শারীরিক প্রতিবন্ধী। দ্বিতীয় ছেলে একটু সুস্থ আছে। তারপর জন্ম হয় জান্নাতুল ফেরদৌসের। কিছুদিন যাওয়ার পরই জান্নাতুলের মাথার আকৃতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেটি শরীরের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে গেলে এটি হাইড্রোক্যাফালাস রোগ বলে শনাক্ত হয়।

এটি শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েন বাবা আব্দুল কাদের ও মা নাজমা খাতুন। কারণ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জান্নাতুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আব্দুল কাদেরের পক্ষে সেই ব্যয়ভার বহন করা পুরোপুরি অসম্ভব।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম হয় জান্নাতুলের। তখনই মাথা কিছুটা বড় ছিল। এরপর ধীরে ধীরে আকার বাড়তে থাকে। একদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, জান্নাতুলের অস্ত্রোপচার করতে হবে। এ জন্য এক থেকে দুই লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা কোথায় পাবেন, সে জন্য বাড়ি ফিরে আসেন বাবা আব্দুল কাদের।

এদিকে জান্নাতুলের শরীরের গঠন অনুযায়ী মাথার আকৃতি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ওজন বেড়ে যাওয়ায় সে এখন হাঁটাচলা করতে পারে না। জন্মের পর থেকেই বিছানায় শুয়ে দুচোখ দিয়ে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। উন্নত চিকিৎসার অভাবে শিশুটি এখন বাড়িতে বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে।

জান্নাতুলের বাবা আব্দুল কাদের কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এমনতেই প্রতিবন্ধী বড় ছেলেকে নিয়ে অসহায় ছিলাম। এখন ছোট মেয়েকে নিয়ে কোনো দিশে পাচ্ছি না। কী করব, কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না। মানুষ ১০০/২০০/৫০০ করে সাহায্য দিচ্ছে কিন্তু তা তো কোনো কাজে আসছে না। প্রতিদিন জান্নাতুলের প্রচুর খাবার লাগে। কারণ সে অনেক খাবার খায়। এখন তার খাবার ও চিকিৎসা খরচ কীভাবে জোগাব বুঝতে পারছি না।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জামাল আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যেই সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মামুন আব্দুল্লাহ ও সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি, আলোচনা করেছি। আমি বিষয়টি নিয়ে পাবনার কিমিয়া ও সিমলা হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছে এটি ঢাকায় অপারেশন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জান্নাতুলের বাবা আব্দুল কাদের কন্যার সুচিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমাজের সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আকুল আবেদন করছেন। আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ০১৭৭৬-৩৮২৭৯৯ (বিকাশ) নম্বরে।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24