বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
পাহাড়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ; আক্রান্ত শতাধিক

পাহাড়ে ডায়রিয়ার প্রকোপ; আক্রান্ত শতাধিক

অনলাইন ডেস্কঃ পাহাড়ে হঠাৎ দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে শতাধিক। শিশুদের পাশপাশি বাদ পড়েনি প্রাপ্তবয়ষ্ক নারী ও পুরুষ। রাঙামাটি দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি পল্লীর বাসিন্দা এখন ডায়রিয়া আক্রান্ত। যদিও কাজ করছে মেডিকেল টিম। কিন্তু দিনে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত্রের সংখ্যা। এঘটনায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে পাহাড় জুড়ে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছেন, পাহাড়বাসি ছড়া, ঝর্ণা ও নদীর অস্বাস্থ্যকর পানি পান করার কারণে ডায়রিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং ইউনিয়ন আমতলা গ্রাম। এ গ্রামে প্রায় ৪৫টি পরিবার। দুর্গমতার কারেণ এ অঞ্চলের মানুষকে খাবার ও ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করতে হয়, পাহাড়ি ছড়া, ঝর্ণা কিংবা হ্রদ থেকে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে ছড়া ও ঝর্ণার পানি শুকিয়ে গেলে তাদের বাধ্য হয়ে সংগ্রহ করতে হয় হ্রদের পানি। আর হ্রদের অস্বাস্থ্যকর পানি পান করে এরই মধ্যে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই। ডায়রিয়াও ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম জুড়ে। সম্প্রতি জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং ইউনিয়নের আমতলা গ্রামে ৮ বছরের শিশু রাঙাবি চাকমা ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে গ্রামবাসির মধ্যে। খবর পেয়ে দ্রুত ওই গ্রামে যায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি বিশেষ মেডিকেল দল।

আমতলা বাদলহাটছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মঙ্গল চাকমা বলেন, সম্প্রতি পাহাড়ে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পর ডায়রিয়ার  প্রকোপ দেখা দিয়েছে। শুনেছি এরই মধ্যে ৭০ জনকে মেডিকেল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কারবারি ও ওয়ার্ড সদস্য রহিনী কুমার চাকমা বলেন, ডায়রিয়ার পাশাপাশি জ্বরও রয়েছে অনেকের। এলাকাবাসীরা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় উপজেলায় রোগীদের আনা সম্ভব হচ্ছে না।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু অমর শান্তি চাকমার মা সঞ্জারিকা চাকমা বলেন, ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার পর শিশুটা একেবারে দুর্বল হয়ে পরেছে। এখন কিছুটা ভালো। তবে চিন্তা বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে। তারাও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। পরিবারে ৩ সদস্য আক্রান্ত থাকলে দেখাশুনা করার লোক একেবারে নাই।

মৈদং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাধনা নন্দ চাকমা বলেন, এ অঞ্চলে খাবার পানির খুবই সমস্যা। দুর্গম গ্রামের মানুষগুলো শুষ্ক মৌসুমে খাবার পানি সংকটে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় একেবারে সুবিধা বঞ্চিত গ্রামবাসীরা। এখন আবার ডায়রিয়ায় দেখা দিয়েছে। সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের ভাগের পরির্বতন হবে না।  স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম দ্রুত পর্যাপ্ত ঔষধসহ পাড়াবাসীদের পাশে দাঁড়ানো দরকার।

রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা বলেন, ডায়রিয়া আগের চেয়ে এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল কাজ করছে জুরাছড়িতে। মৃত্যু সংখ্যা নেই। আক্রান্তরা আগের চেয়ে সুস্থ আছে। প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্তা করা হয়েছে।

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24