বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
মধুমাসের বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল

মধুমাসের বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল

অনলাইন ডেস্কঃ

‘আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা, ফুল তুলিতে যাই
ফুলের মালা গলায় দিয়ে, মামার বাড়ে যাই
ঝড়ের দিনে মামার দেশে, আম কুড়াতে সুখ
পাকা জামের শাখায় উঠি, রঙিন করি মুখ।’

আমাদের পল্লীকবি যাকে বলা হয় তার কবিতা এটি। পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের একটি কিশোর কবিতা। এই কবিতার নাম মামার বাড়ি। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে পাওয়া যাবে এই কবিতাটি।

পল্লীকবির এই কবিতা যারা প্রাথমিকের পাঠ্যবইয়ে পড়েছেন তাদের চোখের সামনেই ভেসে উঠেছে এই কবিতার দৃশ্যপট। কারো কারো চোখে হয়তো পড়েছে কবিতার প্রতিটি বাক্যে। আর এসব বাক্যে-বাক্যে ঘুরে থাকা যায় গ্রামের মামার বাড়ি, ফুল, ঝড়, আম কুড়ানো সুখস্মৃতি। এই স্মৃতি কারো মনে গেঁথে থাকুক আর নাই থাকুক যারা উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে অন্তুত কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেছেন তাদের সামনে পল্লীকবির ‘মামার বাড়ি’ নামক সেই কবিতাই চলে আসবে।

প্রকৃতির পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে যেনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপও বদলাতে শুরু করে। যেমন বসন্ত এলে পাতা ঝরে যায়। এই পাতা ঝরা শেষে গাছে-গাছে, ডালে-ডালে, শাখা-প্রশাখায় যেনো গজায় সবুজ পাতা। এরপর ফুটে রঙবেরঙয়ের ফুল।

একইসঙ্গে আমবাগানেও বইতে শুরু করেছে সুখের ঘ্রাণ। গাছের শাখায় শাখায় ফুটছে আমের মুকুল। এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধুমাসের আগমণী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।

ঠিক তেমনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আমবাগানগুলোও মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দুইটি আমবাগান সহ রয়েছে আরো অসংখ্য আমগাছ। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রায় প্রত্যেকটি গাছেই এসেছে আমের মুকুল।

আম বাগানের সারি সারি গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে মনোমুগ্ধকর মুকুল। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের ডালপালা। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন, এ যেন কাঁচা সোনা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। মুকুলের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে উঠছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা। মুকুলের মনমাতানো ঘ্রাণের টানে মুকুলে মুকুলে বসে মধু সংগ্রহ করছে মধুকর।

আমগাছ ছাড়াও ক্যাম্পাসের লিচু, কাঠালসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের গাছগুলোও মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। এসব গাছের ফলই শিক্ষার্থীদের ফলের চাহিদা অনেকটাই পূরণ করে। আমের মৌসুমে বন্ধুরা মিলে আম পেড়ে খাওয়ার উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। এ উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন সেই ছোটবেলার স্মৃতিকেই খুঁজে পায়। যেন খুঁজে পায়, কবি জসিম উদ্দীনের সেই ‘ঝড়ের দিনে মামার বাড়ির আম কুড়ানোর সুখ।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালেহ আহমদ বলেন, ক্যাম্পাসের বাগানগুলোর মুকুল মধুমাসের আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। গত বছর ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসের আম খেতে পারিনি। বাসায় আম খেলেও ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আম পেড়ে খাওয়ার অনুভূতি অন্য রকম। এর মাধ্যমে আমরা ছোটবেলার সেই স্মৃতিকে খুঁজে পাই। আশা করি এবার বন্ধুদের সাথে আম খাওয়ার সেই অনুভূতিগুলো পাওয়া যাবে।

এজেড এন বিডি ২৪/ রামিম

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24