রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০৯:১১ অপরাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
শীলা আহমেদের লেখা নুহাশের গল্প

শীলা আহমেদের লেখা নুহাশের গল্প

হুমায়ূন আহমেদের ছেলে নুহাশ হুমায়ূনের চলচ্চিত্র ‘মশারি’ সম্প্রতি টেক্সাসের সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জুরি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। সেই সূত্র ধরে ভাইকে নিয়ে লিখেছেন শীলা আহমেদ

দুই দিন আগে জানলাম নুহাশ একটা পুরস্কার পেয়েছে। টেক্সাসের সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মিডনাইট শর্টস (ভৌতিক শর্ট ফিল্ম) বিভাগে জুরি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে নুহাশের বানানো শর্টফিল্ম ‘মশারি’!

এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো ছবি সেখানে দেখানো হলো এবং সেটা পুরস্কার পেল!

অনোরা শুটিং থেকে ফেরার পর নুহাশ আর অনোরা—দুজনের কাছেই আমি ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকি—কী হলো শুটিংয়ে? কিসের শুটিং? ঘটনা কী নিয়ে? নাটক না সিনেমা? অনোরার রোল কী? কেমন করল অনোরা? কিন্তু দুজনই কিছু বলে না! অনোরা খালি ফিচফিচ করে কাঁদে, ‘নুহাশ মামা আর বুশরা খালাকে মিস করছি’, আর নুহাশ শুধু বলল, ‘ভালো হয়েছে। অনোরা তোমার মতোই।’ নুহাশের কথার অর্থও ঠিকমতো বুঝলাম না। আমার মতো মানে কী? নুহাশ তো মনে হয় না আমার কোনো নাটক দেখেছে!

একবার আমরা সব কাজিন মিলে গল্প করছিলাম, কার কোন নায়ক-নায়িকা প্রিয়। আমরা তখন টিনএজার। নুহাশ বেশ ছোট। এই টপিকে ওর মতামতের কোনো দামই নেই আমাদের কাছে। হঠাৎ নুহাশ গম্ভীর গলায় জানাল, তার প্রিয় নায়ক হি-ম্যান (ওর তখনকার প্রিয় কার্টুন ক্যারেকটার) এবং প্রিয় নায়িকা শীলা আহমেদ!

সবাই খুবই বিরক্ত হলো, আমি মনে মনে খুবই খুশি হলাম। পরে গোপনে ওকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মটু (আদর করে ডাকি), আমি তোর প্রিয় কেন?’

অন্য কাউকে চিনি না।

আমি বেশ অপমানিত বোধ করলাম। যত দূর মনে পড়ে, এই আমার নুহাশের সঙ্গে প্রথম এবং শেষ ‘আমার অভিনয়’ নিয়ে কথোপকথন। তখন নুহাশ চার-পাঁচ বছরের আর আমি পনেরো-ষোলো।

নুহাশ হুমায়ূনের চলচ্চিত্র ‘মশারি’র একটি দৃশ্য

একবার আমরা সব কাজিন মিলে গল্প করছিলাম, কার কোন নায়ক-নায়িকা প্রিয়। আমরা তখন টিনএজার। নুহাশ বেশ ছোট। এই টপিকে ওর মতামতের কোনো দামই নেই আমাদের কাছে। হঠাৎ নুহাশ গম্ভীর গলায় জানাল, তার প্রিয় নায়ক হি-ম্যান ও প্রিয় নায়িকা শীলা আহমেদ!

তিন.

মাসখানেক আগে আমি কয়েক দিনের জন্য মায়ের বাসায় থাকতে গিয়েছি। আমাদের জামাই-বউয়ের ঝগড়া। মন খুবই খারাপ।

রাতে নুহাশ বলল, ‘আমার শর্টফিল্মটা রেডি আছে, দেখবে?’

কোন শর্টফিল্ম?

অনোরারটা। একটা খুব ভালো ফেস্টিভ্যালে সিলেক্টেড হয়েছে!

আমি বেশ খুশি হয়ে জানতে চাইলাম, কোন ফেস্টিভ্যাল, কান?

নুহাশ হেসে দিল।

কান না। কান ছাড়া আরও অনেক ফেস্টিভ্যাল আছে পৃথিবীতে।

তারপর নুহাশ গড়গড় করে ফেস্টিভ্যালের বিস্তারিত বলা শুরু করল। ফেস্টিভ্যালের নাম, ঠিকানা, টিকিটের দাম, কোন ক্যাটাগরিতে সিলেক্টেড হয়েছে…। আমি শুনে গেলাম সবই, কিন্তু আমার কাছে বেশ কঠিন মনে হলো। তেমন কিছুই মাথায় ঢুকল না!
সিনেমা ছাড়া হলো নুহাশের ডেস্কটপে। দেখছিলাম তিন বছর আগের ছোট গোলগাল অনোরাকে। নিজের মেয়েকে দেখে মায়া লাগছিল। কিন্তু অনেক বেশি মায়া লাগল নুহাশের জন্য। ছোটবেলার নুহাশের কথা মনে পড়ে গেল। তখন ও সানিডেইল স্কুলে নার্সারিতে পড়ে। চার বছর বয়স। একদিন দৌড়াতে দৌড়াতে স্কুল থেকে ফিরল। খুবই গর্বিত।

মেপু, আজ আমি গল্প বলা শিখেছি! খুবই মজার একটা গল্প মিস শিখিয়েছে! তোমাকে বলব?

বল।

এক দেশে ছিল এক লোভী বিড়াল (‘ড়’–তে অধিক জোর)। একদিন সেই লোভী বিড়াল (‘ড়’–তে আরও বেশি জোর) কী করল জানো?

আমি বিরক্ত হয়ে ওকে থামিয়ে দিলাম। বললাম, ‘উফ, কী বারবার “বিড়াল বিড়াল” করছিস? যা তো এখান থেকে। গল্প বলা শেখ, তারপর গল্প বল!’
ছোট্ট নুহাশ কাঁদো কাঁদো হয়ে গেল।

গল্প বলা কীভাবে শেখে মেপু?

কবে বড় হয়ে গেল নুহাশ! কেমন করে গল্প বলা শিখে গেলি রে তুই?

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24