সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম:
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
নির্যাতিত মেয়েদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পরামর্শ তসলিমা নাসরিনের

নির্যাতিত মেয়েদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলার পরামর্শ তসলিমা নাসরিনের

তসলিমা নাসরিন :শরীরে ‘প্রচুর’ আঘাতের চিহ্ন নিয়ে ঢাকার অভিজাত এলাকা বনানীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক তরুণীর মৃত্যুর পর অভিযোগ উঠেছে, তরুণীটি পারিবারিক নির্যাতনে নিহত হয়েছেন।

এলমা চৌধুরী মেঘলা নামের এই তরুণীটির মাস ছয়েক আগেই বিয়ে হয়েছে। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী।

তার বিভাগের শিক্ষকেরা বলছেন, সদা প্রাণবন্ত উদ্যমী তরুণীটিকে বিয়ের পরই চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, তাকে মোবাইল ফোন বা ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করতে দেয়া হতো না।

বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এ বিষয়ে তসলিমা নাসরিন মুখ খুলেছেন, ‘মেঘলা নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে তার স্বামী শারীরিক নির্যাতন করছে বিয়ের পর থেকেই। এক সময় নির্যাতন করতে করতে লোকটি বিয়ের ছ’মসের মধ্যেই মেঘলাকে মেরেই ফেলেছে। মেঘলা এখন মৃত। অত্যাচারীর বাড়ি থেকে মেঘলা পালায়নি কেন? আর দশটা মেয়ের মতোই হয়তো ভেবেছে, পালিয়ে যাবো কোথায়! তাই অসহায়ের মতো অত্যাচার সহ্য করেছে।’

বাবা-মায়ের ভূমিকা নিয়ে তিনি লিখেছেন, বাপ মা’য়ের কথা আর কী বলবো। তারা তো অপদার্থ কম নয়। নির্যাতিত হচ্ছে মেয়ে, জানার পরও মানিয়ে নে, সহ্য কর বলতে থাকে। ক’জন বাবা মা মেয়েকে নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচাতে নিজের কাছে নিয়ে যায়, এবং নির্যাতককে তালাক দেওয়ার পরামর্শ দেয়! মেয়ের কথা তারা ভাবে না, ভাবে লোকের কথা। লোকে কী বলবে!

একটি প্রস্তাবনা দিয়ে আলোচিত এই লেখিকা বলেন, প্রতিটি দেশেই নির্যাতিত মেয়েদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র থাকা উচিত। কোনও মেয়ে নির্যাতিত হওয়ার শুরুতেই যেন সেখানে আশ্রয় নেয়। সেখানে বিনেপয়সায় তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, খাওয়া পরা আলোচনা পরামর্শ ইত্যাদি দেওয়া হবে, ডাক্তার, মনোবিদ দেওয়া হবে, যে কাজে তারা পারদর্শি, সে কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অতঃপর স্বনির্ভর হওয়ার জন্য সব রকম সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। ধনীরা যেন অর্থহীন কাজে টাকা না ঢেলে নির্যাতিত মেয়েদের আশ্রয়কেন্দ্রে টাকা ঢালেন। সরকার থেকেও যেন সব রকম সাহায্য করা হয়।

তিনি বলেন, সেইসব আশ্রয়কেন্দ্রের যেন চব্বিশ ঘণ্টা ফোন খোলা থাকে, যে কোনও মেয়েই বিপদে পড়ে যেন ফোন করতে পারে। রেডিও টেলিভিশনে পত্র পত্রিকায় যেন এর বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। যে মেয়ে বিপদে পড়েছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, আশ্রয়কেন্দ্রের রেসকিউ বাহিনী যেন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে। বাংলাদেশ একটি ভয়ঙ্কর নারীবিদ্বেষী দেশ। এ দেশে তো শত শত আশ্রয়কেন্দ্র থাকা উচিত। মেয়েরা রাস্তা ঘাটে, অফিসে বাজারে, বাড়িতে গাড়িতে, দিনে রাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আর যেন কোনও মেয়েকে মেঘলার মতো মরতে না হয়।

এজেড এন বিডি ২৪/হাসান

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24