বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:২৩ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: ভারতকে টপকে গেল পাকিস্তান খাগড়াছড়িতে জাতীয় পতাকা প্রদক্ষিণ শোভাযাত্রা যশোরে আনসার-ভিডিপি’র পতাকা র‌্যালি মাদারীপুরে আনসার ও ভিডিপির পতাকা র‍্যালি মানিকগঞ্জে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পতাকা র‌্যালি কক্সবাজারে যাত্রা শুরু হলো দেশের প্রথম উড়ন্ত রেস্টুরেন্টের টপ চারের একি হাল! লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় পুলিশ সদস্যকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা সমুদ্রে ডাকাতি, উপকূলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মুক্তিপণ আদায় তারামন বিবির মৃত্যুবার্ষিকীতে নেই কোনো সরকারি কর্মসূচি জাহাঙ্গীর আলম কি আওয়ামী লীগে একজনই? বাংলাদেশের পঞ্চাশে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের প্রাসঙ্গিকতা পথশিশুদের নিয়ে এম এ রশিদের গান ডিসেম্বর বাঙালির আনন্দ-গৌরবের মাস ‘উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও জনতা’র নামে পুলিশের মামলা, আসামি ৮০০
২৭ বছর পর স্ত্রীর কাছে ফিরল হারিয়ে যাওয়া জহর, মালা পরিয়ে বরণ

২৭ বছর পর স্ত্রীর কাছে ফিরল হারিয়ে যাওয়া জহর, মালা পরিয়ে বরণ

অনলাইন ডেস্কঃ স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে কোলের শিশু সন্তানকে রেখে নিরুদ্দেশ হওয়া কুড়িগ্রামের সদরের পৌরসভার বাসিন্দা কান্দুরাম মাবুদের ছেলে জহর উদ্দিন ওরফে বাচ্চু ২৭ বছর পর ফিরেছেন স্ত্রীর কাছে।

স্বামীর ফিরে আসায় একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ২৭ বছর কাটিয়ে দেওয়া জাহেদা বেগম দীর্ঘদিন পর স্বামীকে পেয়ে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা জহর উদ্দিন ওরফে বাচ্চুকে ফুলের মারা পরিয়ে বরণ করে নেন।

জানা গেছে, কৃষক জহর উদ্দিনে ১৯৯১ সালে কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের আগমনী গ্রামে বিয়ে করেন জাহেদা বেগমকে। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তেমন বনিবনা ছিল না। ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। এর ধারাবহিকতায় বিয়ের পর ৬ মাসের শিশু সন্তান জাহিদুল ইসলামকে রেখে ১৯৯৪ সালে একেবারই নিরুদ্দেশ হন জহর উদ্দিন। স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনের তুচ্ছ ঘটনাই অভিমান করে তার নিরুদ্দেশ হওয়া।

পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তার সন্ধান না পেয়ে তার আশা ছেড়ে দেন তার পরিবার। কিন্তু গত ৩০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ২৭ বছর পর জহর উদ্দিন ওরফে বাচ্চু আকষ্মিকভাবে নিজ জন্মস্থানে স্ত্রীর কাছে ফিরে আসলে অবাক হন সবাই।

জহির উদ্দিন ওরফে বাচ্চু বলেন, আমি মূলত স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বাড়ি ছাড়ি। বাসে করে চলে যাই যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের গোবিন্দুপর গ্রামে। সেখানকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মিলে মিশে কাটে। আমাকে অনেক ভালোবাসতেন গোবিন্দুপর গ্রামের মানুষ। ওখানে সবাই আমাকে বাচ্চু ভাই বলে ডাকতো সবাই। সবার সঙ্গে সখ্য আর ভালোবাসায় আশ্রয় হয় সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদের দোতলায় এক কক্ষে। এখানেই আমার কেটে যায় ২০টি বছর। আমি চাকরি না করলেও পরিষদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে সার্বিক দেখাশোনার কাজ করেছি।

জহির উদ্দিন ওরফে বাচ্চু আরো বলেন, জীবিকার জন্য সাবেক চেয়ারম্যান বিকাশ মল্লিক একটি ভ্যান গাড়ি কিনে দেন। এর পাশাপাশি সনতান ধর্মালম্বীদের সৎকার, বিয়েসহ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে ছিল পদচারণা। আমার সরল মন ও চলাফেরার আচার-আচরণে পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব, মেম্বারসহ স্থানীয়দের সবারই কাছে আস্থাভাজন হয়ে উঠি আমি। এভাবে প্রায় জীবনের ২৭টি বছর কেটে যায় আমার। স্ত্রী-সন্তানের কথা বেশি বেশি মনে হওয়ায় আর অভিমান করে থাকতে পারিনি। তাই ছুটে এসেছি।

জহির উদ্দিন ওরফে বাচ্চুর ভাতিজা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার চাচা ফিরে আসবে আমরা কখনই ভাবতে পারিনি। অনেক খোঁজাখুঁজির করার পরও না পেয়ে তার আশা ছেড়ে দিয়েছি। হঠাৎ ৩০সেপ্টেম্বর তাকে আমরা কাছে পেয়ে আনন্দে কান্না করেছি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে চাচার বয়স বেড়ে যাওয়া চাচা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার একমাত্র সন্তান তার বাবাকে এতদিন দেখেনি। বাবা ফিরে আসায় দেখা করে সে তার কর্মস্থল ঢাকাতে চলে গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, জহর উদ্দিনের খোঁজ না থাকায় আমরা গ্রামবাসী ভেবিছিলাম সে মারা গেছে। দীর্ঘ ২৭বছর পর সে ফেরত আসায় প্রতিবেশী ও তার পরিবারের লোকজন সবাই খুব খুশি হয়েছি।

জহর উদ্দিন ওরফে বাচ্চুর স্ত্রী জাহেদা বেগম বলেন, ২৭টি বছর ধরে একমাত্র সন্তানকে বুকে নিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় ছিলাম। ভিক্ষা করে, মানুষের বাড়িতে কাজ এ করে ছোট্ট ছেলেকে বড় করেছি। আশায় ছিলাম ছেলের বাবার হাতে ছেলেকে তুলি দেব। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে অন্য কোথাও বিয়েও করিনি। আসলে আমার স্বামীর রাগ-অভিমান বেশি, বুদ্ধি কম। সে পাষাণের মতো আমাকে ছেড়ে চলে গেল। এরপরও এতদিন পর স্ত্রী-সন্তানের মনে রাখায় আমি তার উপর খুশি। এখন নতুন করে সুখের সংসার গড়ব।

এজেড এন বিডি ২৪/হাসান

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x