বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
এসি বিস্ফোরণের কারণ ও রক্ষা পেতে করণীয় উপহার নিয়ে অভিযুক্ত স্যামুলেস নিউজিল্যান্ডকে হুমকি দিয়েছে ভারত, দাবি পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রীর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল একটুতেই অসুস্থ হচ্ছেন? এর জন্য দায়ী যে পাঁচটি বদভ্যাস দেশের লাখ লাখ তরুণদের স্বপ্ন জাগিয়েছেন শেখ হাসিনা: ওবায়দুল কাদের কীটনাশক দিয়ে ৭২টি ঘুঘু-কবুতর হত্যার ঘটনায় থানায় অভিযোগ সিরাজগঞ্জে ২০ লাখ টাকার হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ব্যাঙের ছবিতে লুকিয়ে আছে ঘোড়া, খুঁজে বের করতে পারবেন? এক ডালেই সাড়ে ৮০০ টমেটো, গিনেস বুকে নাম স্মার্ট পোশাক না পরলে ঢোকা যাবে না রেস্তোরাঁয় রোজীর বাহারি অফার: একা গেলে ১৮ লাখ, সপরিবারে ২৩ লাখ কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জনের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে যা বললেন ভুক্তভোগী নারী ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল
সিলেটে নেই সেই আতঙ্ক

সিলেটে নেই সেই আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্কঃ মাত্র মাসখানেক আগেও ফেসবুকে ঢু মারলে দেখা যেত করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ভয়াবহ খবর। সিলেটের রাস্তায় রাস্তায় দেখা যেত করোনা আক্রান্ত রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ছুটোছুটি।

এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে রোগী নিয়ে স্বজনদের দৌঁড়ঝাঁপ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। হাসপাতালে সাধারণ বেড পাওয়াও ছিল দুষ্কর, আর আইসিইউ বেড তো ছিল সোনার হরিণ। তবে কিছুদিনের ব্যবধানে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় সিলেটের হাসপাতালগুলোতে অনেকটা খালি পড়ে আছে বেড। নেই আগের মতো রোগীর চাপ।

সিলেটসহ সারাদেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধি-নিষেধ শুরু হয়। ঈদের সময় আট দিন বিরতি দিয়ে ১০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ছিল কড়া বিধি-নিষেধ। এরপর সংক্রমণ কমে আসায় ১১ আগস্ট থেকে বিধি-নিষেধ শীথিল করে সরকার। তবে লকডাউনের সুফলে সিলেটে পরবর্তীতে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ।
লকডাউন চলাকালে সময় সিলেট বিভাগে করোনায় রেকর্ড ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্তের ভয়াবহতায় মানুষ বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। এ সময় সিলেটে প্রতিদিনই শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যেত। অনেক তরুণ-তরুণীও মারা গেছেন করোনাভাইরাসে।

ওই সময় মানুষ ছিলেন চরম আতঙ্কে। মুমূর্ষু রোগীদের জন্য সিট পেতে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে স্বজনদের ঘুরতে দেখা গেছে প্রতিদিন। একটি আইসিইউ বেড পেতে থাকতে হতো অপেক্ষায়। নাম লেখিয়ে রাখতে হতো হাসপাতালের খাতায় কেবলমাত্র একটি আইসিইউ বেড পাওয়ার জন্য। পাশাপাশি হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটও দেখা দিতো মাঝে মধ্যে। হাসপাতালে সিট না পেয়ে অনেক রোগীকে বাসাবাড়িতে রেখেই দেয়া হয় অক্সিজেন সাপোর্ট।

তবে মাসখানেক সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে সিলেটের হাসপাতালে অনেকটা কমেছে করোনা রোগী। নেই রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের ছুটোছুটি। কিংবা আগের মতো স্বজনদের রুদ্ধশ্বাস দৌঁড় নেই অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে। তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লকডাউন দেওয়ার সুফলতা এখন ভোগ করলেও মানুষ যদি সচেতন না থাকেন তাহলে সিলেটে আবারো বাড়তে পারে করোনার ভয়াবহতা।

এদিকে, সিলেটে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা) পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছেন ৪৯ জন নতুন রোগী। নতুন ৫ জন নিয়ে বিভাগে মৃতের সংখ্যা এখন ১১২৯ জন। এর আগে গেল ১১ সেপ্টেম্বর একদিনে সিলেটে ২ জন করোনা রোগী মারা গিয়েছিলেন। এদিন সিলেটে মাত্র ৫৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর আরো জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ১১৭ জন, ৯ সেপ্টেম্বর ৭১ জন, ১০ সেপ্টেম্বর ৬৭ জন ও গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর ৫৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন সিলেট বিভাগে। ধারাবাহিকভাবে করোনার সংক্রমণ কমছে সিলেটে। দীর্ঘদিন পর শনাক্তের সংখ্যা নেমেছে পঞ্চাশের নিচে।

সিলেটে করোনা রোগী কমেছে সেটির সত্যতা হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেছে। রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেটে করোনা চিকিৎসার নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৪৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন সেখানে। এর আগের দিন অর্থাৎ শনিবার ৪৭ জন রোগী ছিলেন।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ নাফিজ মাহদি বলেন, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে কিছু দিন আগেও একটি বেড পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার। গত ১০ দিন থেকে করোনা রোগী অনেকটা কমেছে এ হাসপাতালে।

সিলেটের বেসরকারি নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও খবর নিয়ে জানা গেছে, সেখানেও রোগীর সংখ্যা কম। ১৮টি আইসিইউ বেডের মধ্যে ওই হাসপাতালে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২টি আইসিইউ বেডে রোগী রয়েছেন বলে জানান হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। এছাড়া ৩২টি সাধারণ বেডের মধ্যে ১৬ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাউন্ট এডোরা হসপিটাল ও উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীর চাপ কম রয়েছে বলে জানিয়েছন সংশ্লিষ্টরা।

করোনা সংক্রমণ কমে আসা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় অফিসের সহকারী পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, সর্বশেষ লকডাউন যৌক্তিক সময়ে ছিল। যার সুফলতা আজকে আমরা ভোগ করছি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমার আরেকটি কারণ উল্লেখ করে বলেন, মহামারির ঢেউ সাধারণত ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস থেকে। সেই সময় আমরা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছি। সবমিলিয়েই এখন করোনা সংক্রমণ কমেছে। তবে মানুষকে সচেতন থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

তিনি বলেন, করোনার ঢেউ আবার আসতে পারে যে কোনো সময়। তাই সতর্ক না থাকলে ও স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আমাদেরকে চড়া মাশুল দিতে হবে।

এজেড এন বিডি ২৪/হাসান

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x