রবিবার, ০৩ Jul ২০২২, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
ফেরিতে ভয়ঙ্কর জার্নি, অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা করোনায় আরও ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৮৯৭ ফ্ল্যাট না পেয়ে স্বামীকে ইয়াবায় ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো ফাঁসলেন স্ত্রী ‘বাড়ির কারোর মুখে তেমন খুশির ছিটেফোঁটাও দেখতে পাইনি’ বিচারপতি নিজেই চাইলেন বিচার গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সময়োপযোগী ও সাহসী : টিক্যাব গুগল অ্যাপলের অ্যাপস্টোর থেকে টিকটক সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ নদীতে পড়ে যাওয়া আইফোন ১০ মাস পরও সচল! গ্রেভি বিফ চিলি তৈরির রেসিপি মাহির বডি ফিটনেস নেই, বয়স হয়েছে: আজিজ শাকিবের ৪ কোটি টাকার সিনেমায় নায়িকা পূজা ময়মনসিংহের তুফানের দাম ১৭ লাখ টাকা শিক্ষক উৎপল হত্যা : সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় খুলছে স্কুল ছুটির দিনে পদ্মা সেতুতে চলছে ছবি-সেলফি উৎসব
পূর্বসূরিদের হজ যেমন ছিল

পূর্বসূরিদের হজ যেমন ছিল

ওমর শাহ: প্রসিদ্ধ সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হজে গেল এবং কোনো অশ্লীল ও অন্যায় কাজ করলো না, সে নবজাতকের মতো হয়ে ফিরলো।’ অর্থাৎ তার গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

আবু হুরায়রা (রা.) আরো বর্ণনা করেন, নবীজি বলেছেন, ‘এক ওমরাহ থেকে আরেক ওমরাহর মধ্যবর্তী সময়ের (সগিরা) গোনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হয়। আর জান্নাতই হচ্ছে মকবুল হজের একমাত্র প্রতিদান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৭৭৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৪৩৭)

এ জন্য সলফে সালেহিন তথা পূণ্যবান পূর্বসূরি মনীষীরা হজ ও ওমরাহ আদায়ে খুবই আগ্রহী ও যত্নবান ছিলেন। হজ পালনে তাদের যে স্পৃহা, অভিপ্রায় ও প্রাণবন্ততা ছিল; তা এককথায় অতুলনীয়। আমাদের হয়তো এখন সেগুলো কল্পনা করাও কঠিন। অনেক আলেম এই বিষয়ে স্বতন্ত্র বই রচনা করেছেন। এর মধ্যে শায়খ হোসাইন আল আফানির ‘সালাহুল উম্মাহ ফি উলুওয়িল হিম্মাহ’ নামক বইটি উল্লেখযোগ্য। সে বইয়ে লেখক এজাতীয় অনেক দুর্লভ ও সুখপাঠ্য তথ্য সন্নিবেশিত করেছেন।

সাহাবিদের হজ

সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর অন্যতম শিষ্য নাফে (রহ.) বলেন, ইবনে ওমরের সঙ্গে আমি ৩০ বারেরও বেশি হজ ও ওমরাহর সফর করেছি। (সিয়ারু আলামিন নুবালা :  ৫/৯৭) হজরত হাসান ইবনে আলী (রা.) ১৫ বার হজ আদায় করেছেন।

হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) ‘জাতু ইরক’ নামক স্থান থেকে ইহরাম পরিধান করেন এবং হালাল হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর জিকির ছাড়া কোনো কথা বলেননি।

তাবেয়িদের হজ

তাবেয়ি আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ নাখায়ি (রহ.) হজ ও ওমরাহসহ ৮০ বার বায়তুল্লাহ জিয়ারত করেছেন। আমর ইবনে মায়মুন (রহ.) ৬০ বার হজ ও ওমরাহ আদায়ের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ.) নিজে বলেন, আমি ৪০ বার হজ আদায় করেছি। সাঈদ ইবনে জুবাইর (রহ.) প্রতিবছর দুইবার এহরাম বাঁধতেন—একবার হজ ও আরেকবার ওমরাহ আদায়ের জন্য। মুসলিম ইবনে ইয়াসার (রহ.) প্রতিবার হজে যেতেন এবং নিজ খরচে আরো কয়েকজনকে হজ আদায় করতে সঙ্গে নিতেন।

জ্ঞানার্জনের লক্ষ্যে হজের সফর

আগের যুগে হজের সফর ছিল জ্ঞানার্জনের একটি অন্যতম মাধ্যম ও বিরাট সুযোগ। কেননা মুসলিম বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ওলামায়ে কেরাম মক্কায় এসে সমবেত হতেন। সেখানে পাঠদানের ধারা অব্যাহত থাকত। এ জন্য আমরা উম্মাহর ক্ষণজন্মা মনীষীদের জীবনের ইতিবৃত্ত অনুসন্ধান করলে দেখতে পাই যে তারা একাধিকবার হজের সফরে গেছেন। এমন বেশিসংখ্যক হজ তারা করেছেন যে আজকাল তা অসম্ভব না হলেও দুষ্কর ও দুর্লভ তো অবশ্যই।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তার জীবনে ৫৫ বার হজ করেছিলেন। (আল খায়রাতুল হিসান, পৃ. ৭৫) ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.) বর্ণনা করেন, আমার শায়খ আলী ইবনুল মুনজির (রহ.)-কে বলতে শুনেছি যে আমি ৫৮ বার হজ করেছি। বেশির ভাগই হেঁটে সফর করেছি। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩২০৮)।

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) মুহাদ্দিস সাঈদ বিন সুলায়মান ওয়াসিতি (রহ.) সম্পর্কে বলেন, তিনি ৬০ বার হজ আদায় করেছেন। (তাহজিবুত তাহজিব : ২/৩১১) ইমাম বুখারি (রহ.)-এর অন্যতম উস্তাদ মুহাদ্দিস মাক্কি ইবনে ইবরাহিম (রহ.) বলেন, আমি ৬০ বার হজ পালন করেছি। (তাজকিরাতুল হুফফাজ, ১/২৬৮) ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রহ.) বলেন, আমি ৮০ বার হজ পালন করেছি। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৮/৪৬৫)

বাদশাহ হারুন রশিদের হজ

প্রসিদ্ধ আছে, খলিফা হারুন রশিদ এক বছর জিহাদে থাকতেন এবং আরেক বছর হজে যেতেন। জনৈক আরব কবি তো বলেছেন, ‘যে আপনার সাক্ষাৎ চাইবে, সে হারামাইন না হয় ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্তে আপনাকে পাবে।’

বাদশাহ হারুন রশিদের নিয়ম ছিল, তিনি যে বছর হজে যেতেন, সে বছর আরো ১০০ জন ফকিহ ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিতেন। আর যে বছর তিনি নিজে যেতে পারতেন না, সে বছর নিজে পূর্ণ খরচাদি দিয়ে ৩০০ জনকে হজে পাঠাতেন। (ওফায়াতুল আয়ান ও তারিখুল ইসলাম লিজ জাহাবি)

খতিব বাগদাদির হজ

আবুল ফারজ ইসফারাইনি, খতিব বাগদাদি (রহ.)-এর সঙ্গে আমরা হজে ছিলাম। তিনি প্রত্যহ ধীরস্থিরভাবে কোরআন তেলাওয়াত করে এক খতম করতেন। এরপর হাদিস শিখতে আগ্রহীরা তার পাশে জড়ো হতেন এবং বলতেন, আপনি আমাদের হাদিস শোনান। তিনি সবাইকে হাদিসও শোনাতেন। (তাজকিরাতুল হুফফাজ)

এজেড এন বিডি ২৪/ রেজা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x