বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
যে নামে হতে পারে কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ চুল পড়া বন্ধের দুর্দান্ত উপায় সাকিব-লিটনের ব্যাটে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ৪ জাতি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কোচ আবাহনীর লেমোস দলের প্রয়োজনে সড়ে দাঁড়াবেন মরগান করোনায় আরও ১০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩ অষ্টগ্রামের পনিরের কদর এখন সর্বত্র খুলনায় মাদক মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন নিজ দলেই বিতর্কিত তারেক, শঙ্কা ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়েছে: টেলিযোগাযোগমন্ত্রী সুন্দরবন সুরক্ষায় স্ট্র্যাটেজিক এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান করা হয়েছে: পরিবেশমন্ত্রী ‘রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল করতে বিভিন্ন ধরনের মেলার বিকল্প নেই’ ডিএমপির ৭ ইন্সপেক্টরকে বদলি জন্মদিনে ধরা দেবেন ‘লাল-সাদা’ পরী, আমন্ত্রণ তালিকায় কারা? ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
নেচে-গেয়ে ও ঝাড়-ফুঁক দিয়ে প্যারালাইসিস রোগীর চিকিৎসা

নেচে-গেয়ে ও ঝাড়-ফুঁক দিয়ে প্যারালাইসিস রোগীর চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্কঃ ১০ বর্গফুট জায়গা বাঁশ দিয়ে ঘেড়া। চারকোনায় চারটি কলাগাছ, উপরে ছামিয়ানা। ছামিয়ানার নিচে সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা। তিনি মাঝামাঝি বসা। পাশে ঝাড়ু হাতে এক কবিরাজ। তিনি নেচে নেচে গান গাইছেন। নাচ গানের তালে বৃদ্ধার চারদিকে ঘুরছেন। এরপর বৃদ্ধাকে ঝাড়ু দিয়ে ছুঁয়ে দিচ্ছেন মাথা থেকে পা পর্যন্ত।

আবার নাচ গান করে ঘুরছেন। তার সঙ্গে ঘুরছেন কয়েকজন কিশোরী। তাদের পরনে হলুদ শাড়ি। তারাও কবিরাজের সঙ্গে সুর মিলিয়ে নাচ গান করছে আর বৃদ্ধার মুখমণ্ডল মুছে দিচ্ছে তাদের শাড়ির আঁচল দিয়ে। এসব দৃশ্য আবার উপভোগ করছে প্রতিবেশীরা।

এভাবে নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় অপচিকিৎসা দিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কবিরাজ ফুল মিয়া। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামে তার বাড়ি । রোববার দুপুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুল মিয়ার তেমন লেখাপড়া নেই। এক সময় তিনি গাইবান্ধা শহরে কুলির কাজ করতেন। এরপর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিজ বাড়িতে কবিরাজি করছেন। বিশেষত তিনি প্যারাইসিস রোগীর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। প্রতি রোগীকে ৩০-৫০ মিনিট ঝাড়-ফুঁক দেন। এ জন্য একজন রোগীর কাছ থেকে ৫০০-৫০০০ টাকা ফি নেন। ঝাড়-ফুঁকের সময় তার সঙ্গে ৫-৬ জন কিশোরী কাজ করে। তারা সবাই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তাদেরও কিছু সম্মানি দেন কবিরাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কিশোরী জানায়, এতে তাদের আনন্দ লাগে, রোগীরাও ভালো হয়।

এ পর্যন্ত কতজনকে চিকিৎসা দিয়েছেন তার কোনো হিসাব কবিরাজের কাছে নেই। কুসংস্কারকে বিশ্বাস করে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এখানে আসছে। তারা সুস্থ হয় কি না এলাকাবাসী জানেন না। তবে কবিরাজ ফুল মিয়ার দাবি- তার কাছে আসা সব রোগীই সুস্থ হয়। রোগীকে তিনি গ্যারান্টি দিয়ে সুস্থ করে তোলেন।

তার মতে, ঝাড়-ফুঁক করতে অনেক সময় লাগে। এ সময় রোগীরা বিরক্ত হন। ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেন। তাই বিনোদনের মাধ্যমে ঝাড়-ফুঁক করা হয়। ঝাড়ুর ব্যবহারের কারণ কি, জানতে চাইলে কবিরাজ বলেন, ঝাড়ুটি বন (দোয়া তাবিজ) করা। এটি রোগীর শরীরে ছুঁয়ে দিলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।

কবিরাজের কাছে আসা ওই বৃদ্ধার এক আত্মীয় জানান, এই কবিরাজের কাছে ঝাড়-ফুঁক নিয়ে অনেকে সুস্থ হয়েছেন শুনে তারা এখানে এসেছেন।

নশরতপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক আবদুস সোবহান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজ ফুল মিয়া এভাবে অপচিকিৎসা দিচ্ছেন। তার খপ্পরে পড়ে নিরীহ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। রোগ তো ভালো হচ্ছেই না বরং তারা টাকা পয়সা নষ্ট করছেন।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. আ.ক.ম. আখতারুজ্জামান বলেন, গ্রামাঞ্চলে এসব কুসংস্কার এখনো আছে। এ ধরনের অপচিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই। এটা সম্পূর্ণ কুসংস্কার এবং প্রতারণা। রোগব্যাধি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। যেকোনো রোগের জন্য হাসপাতাল রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঝাড়-ফুঁকে তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না হলেও রোগী মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এসব কবিরাজের কাছ থেকে ওষুধ জাতীয় কিছু সেবন করলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এদের কাছ থেকে বিরত থাকাই ভালো।

এজেড এন বিডি ২৪/ তমা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x