সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্বের বাধ্যবাধকতা তুলে নিল সৌদি নুসরাতের মামলা: অসংলগ্ন অনুমান আর কল্পনা মানুষের জীবনের থেকেও কি ধর্ম বড়, প্রশ্ন শ্রীলেখার স্ত্রীকে রেখে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করলেন শিক্ষক হাতির পিঠে চড়ে মনোনয়ন জমা সনাতন ধর্মাবলম্বীর সৎকারে এগিয়ে এলো মুসলিমরা আবারও বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম বগুড়ার অপু বিশ্বাস যেভাবে সিনেমার নায়িকা হলেন শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন আজ স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল স্কটল্যান্ড মালিঙ্গাকে পেছনে ফেলে বিশ্ব রেকর্ড সাকিবের কাপাসিয়ায় ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ৫০ জন লক্ষ্মীপুরে ৪ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ২৮ জনের মনোনয়নপত্র দাখিল বাংলাদেশের দাপুটে বোলিংয়ে কোণঠাসা স্কটল্যান্ড
ট্রাফিক পুলিশ : সনাতনী ও অমানবিক দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিন

ট্রাফিক পুলিশ : সনাতনী ও অমানবিক দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিন

শহীদুল হক , সাবেক আইজিপি: একটি গল্প আছে। এক পিতা তার স্কুলে পড়ুয়া ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিল, “বাবা, তুমি বড় হয়ে কি হতে চাও?” ছেলের জবাব,“আমি বড় হয়ে ট্রাফিক পুলিশ হতে চাই।” বাবার আবার প্রশ্ন, “কেনো?” ছেলে বলে ট্রাফিক পুলিশের অনেক ক্ষমতা। ট্রাফিক পুলিশ হাত তুললেই গাড়ি থেমে যায়। জজ, ব্যারিস্টার, মন্ত্রী সকলের গাড়িই ট্রাফিক পুলিশ থামিয়ে দিতে পারে।

শিশুটি তো বুঝে না এটা ট্রাফিক পুলিশের ক্ষমতা নয়, এটা আইনের ক্ষমতা। ট্রাফিক পুলিশের করুণ অবস্থা জানতে পারলে শিশুটি ভুলেও ট্রাফিক পুলিশ হতে চাইত না। পুলিশ সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের ধারণাও নেতিবাচক। পুলিশ সিগনাল দিয়ে গাড়ি থামালেই মানুষ মনে করে ঘুষ খাওয়ার জন্য গাড়ি থামিয়েছে। অনেকের প্রেজটিজেও লাগে। তারা গণ্য-মান্য, হর্তা-কর্তা শ্রেণির লোক। একজন সাধারণ ট্রাফিক পুলিশ কেন তার গাড়ি থামাবে? তিনি যে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করছেন তা আমলে নিচ্ছেন না। ট্রাফিক পুলিশের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে যান। কোন কোন সময় ট্রাফিক পুলিশেরও ধৈর্য্যচ্যূতি ঘটে এবং তারাও বাড়াবাড়ি করে থাকে। প্রতিকূল পরিবেশে অধিক খাটুনির কারণে কারো দুর্ব্যবহারে বা তর্ক-বিতর্কের সময় পুলিশের মেজাজও কখনও কখনও ঠিক রাখা কঠিন। যদিও সকল সময় ও সকল পরিস্থিতিতে পুলিশকে ধৈর্য্য ও পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করাই বাঞ্ছনীয়।

 ট্রাফিক পুলিশকে সনাতনী ও অমানবিক ডিউটি থেকে মুক্তি দিয়ে মানবিক কারণে তাদেরকে রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা করা যেমন জরুরি তেমনি উন্নত দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ন্যায় আমাদের রাজধানী শহরেও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা অপরিহার্য। এতে নাগরিকরা স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবে এবং দেশের ভাবমূর্তিও বৃদ্ধি পাবে। 

বাংলাদেশে ট্রাফিক পুলিশ সনাতন পদ্ধতিতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ডিউটি করে থাকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ধুলা-বালি, রৌদ্র-বৃষ্টি, গাড়ীর হর্নের কানফাটা শব্দের মধ্যে আট-দশ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে হয়। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত লাইট সিগনাল ত্রুটির কারণে অকেজো হয়ে পড়েছে বিধায় ট্রাফিক পুলিশকে হাত সিগনাল দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

চালকদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা থাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হিমসিম খেতে হয়। এক মুহূর্তের জন্যও ডিউটিস্থল ত্যাগ করতে পারে না। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে এমন কি মূত্রত্যাগ করার সুযোগও সহজে পায় না। দীর্ঘক্ষণ মূত্র চেপে রাখার কারণে অধিকাংশ ট্রাফিক পুলিশ কিডনির রোগে ভুগে। তাছাড়া প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার জন্য কর্তব্যস্থলের কাছে কোন শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই। নারী পুলিশের জন্য এ সমস্যা আরো প্রকট।

গত ৩০ জুলাই, ২০২১ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পৃষ্টায় ‘শ্বাসকষ্টে ভুগছেন ঢাকার ৮৪% ট্রাফিক পুলিশ’শিরোনামে একটি গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়। আইইডিসিআরের একটি প্রকল্পে কাজ করেছেন ডা. শাকিলা ইয়াসমিন। তিনি ঢাকার ট্রাফিক পুলিশের স্বাস্থ্য সমস্যার উপর ২০১৮ সালে এই গবেষণা করেন। সেই গবেষণার তথ্য ২০২১ সালের মে মাসে ভারতের জার্নাল অব মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল রিসার্চে প্রকাশিত হয়। ঐ গবেষণায়ই দেখা যায় ঢাকার ৮৪% ট্রাফিক পুলিশ শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। বায়ুদূষণ নিয়ে করা আর একটি গবেষণায় দেখা যায় ৪০% ট্রাফিক পুলিশ ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। ৫৬% ট্রাফিক পুলিশ ঘুমের মধ্যে বিকট শব্দ শুনতে পান। ২৭% মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত।

ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করার কারণে তাদের মেজাজ খিটখিটে হয়, হাঁড় ক্ষয় হয়, পায়ে ও মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে, চোখ জ্বালাপোড়া করে। এছাড়া তারা ব্রংকাইটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও ক্যানসারেও ভুগে। বায়ু ও শব্দ দূষণের ফলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা এ সকল স্বাস্থ্য সমস্যার কবলে পতিত হচ্ছে। ফলে অনেকেরই অকাল মৃত্যু হয়। এ বিষয়গুলো পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্য বরাবরই অবহিত আছেন। বাহিরের গবেষণার ফাইন্ডিংসে একই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

পুলিশ সদস্যদের সাধারণ রোগের চিকিৎসা পুলিশ হাসপাতালেই হয়। কিন্তু জটিল রোগের চিকিৎসা বাহিরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে করাতে হয়। আমি দেখেছি প্রায় সকল পুলিশ সদস্যেরই বাহিরে চিকিৎসা করানোর মত আর্থিক সামর্থ্য নেই। তারা আইজিপির কাছে চিকিৎসা সাহায্য চেয়ে আবেদন করে। আইজিপি যতটুকু সম্ভব পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট ফান্ড থেকে সাহায্য করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই তা অপ্রতুল। কর্তব্যরত অবস্থায় একজন পুলিশ সদস্য মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার দারুণ অসহায়ত্বের মধ্যে নিমজ্জিত হয়। অথচ এক শ্রেণির মানুষ মনে করে পুলিশের অনেক টাকা। বাস্তবতা হলো অধিকাংশ পুলিশ সদস্য সংসার চালাতে হিমশিম খায়।

আমি পুলিশ প্রধান থাকাকালে এ সমস্যার প্রতিকারের জন্য কি করেছি সে প্রশ্ন পাঠকদের মনে আসা স্বাভাবিক। ট্রাফিক পুলিশের এ করুণ অবস্থা আমাকে বরাবরই খুব কষ্ট দিত। আমি মনে মনে স্থির করেছিলাম আমি কখনও সুযোগ পেলে এর প্রতিকারের চেষ্টা করব। আমি ২০১৫ সালের পহেলা জানুয়ারি তারিখে আইজিপির দায়িত্ব শুরু করার পর গৃহীত অনেক পরিকল্পনার মধ্যে দুটো পরিকল্পনা প্রথম থেকেই গুরুত্বসহকারে নিয়েছিলাম। এ দুটো আমার স্বপ্নই ছিল। একটি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ চালু করা এবং অপরটি ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে উন্নত দেশের ন্যায় ডিজিটাইজড করা। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ চালু করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু ট্রাফিক ডিজিটাইজডের কাজটি সম্পন্ন করতে পারিনি।

আমি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজড করার লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করি। কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে চীনের হোয়াইও কোম্পানি কোয়ালিফাইড হয়। তারা অন্য দেশেও সফলতার সাথে এ কাজ করেছে। প্রায় এক বছর পরিশ্রম করে তারা ফিজিবিলিটি রিপোর্ট দেয় এবং সেই রিপোর্টকে ভিত্তি করে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোফাইল) তৈরি করে ২০১৭ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করি। সিটি (কাস্টম ট্যাক্স) ও ভ্যাটসহ পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট। আমি তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী (বর্তমান অর্থমন্ত্রী) মহোদয়ের সাথে আলোচনা করি। তিনি অর্থ যোগানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, প্রজেক্ট প্রস্তাব তাঁদের কাছে আসলে ফান্ডের ব্যবস্থা করে দিবেন। তিনি আরো বলেন টাকার কোন সমস্যা নেই।

আমাদের দেশের মত সনাতনী পদ্ধতিতে পৃথিবীর অন্য কোন দেশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে বলে আমার জানা নেই। পুলিশকে যাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক ডিউটি করতে না হয় সে জন্যই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাইজড করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। শহরের প্রত্যেকটি সড়ক ও রাস্তায় সিসি ক্যামেরা থাকবে। পুলিশ কন্ট্রোলরুমে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং যানবাহনের চিত্র বিশাল মনিটরে প্রদর্শিত হবে। যানবাহনগুলো সড়কে স্থাপিত ক্যামেরায় দেখা যাবে। পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বসেও দেখা যাবে। কোন চালক নির্ধারিত গতিসীমার অধিক গতিতে গাড়ি চালালে কিংবা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে সাথে সাথে তা ক্যামেরায় বন্দি হবে। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের গাড়ি থাকবে। পুলিশের দৃষ্টিতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার দৃশ্য আসলে কিংবা পুলিশ কন্ট্রোলরুম থেকে সংবাদ পাওয়ায় সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং ব্যবস্থা থাকলে চালকরা স্বেচ্ছায়ই সতর্ক থাকবে, ট্রাফিক আইন মেনে চলবে এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা করবে। এ উদ্দেশ্যেই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাইজড করার প্রকল্প তৈরি করেছিলাম। এ ব্যবস্থা যদি চালু হত তবে পুলিশকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ধুলা-বালি, শব্দ ও বায়ু দূষণের মধ্যে ডিউটি করতে হত না। তাদেরকে শব্দ ও বায়ু দূষণের কারণে সৃষ্ট রোগ-ব্যাধিতে ভোগতে হত না। ট্রাফিক শৃঙ্খলাও বজায় থাকত। ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় থাকলে দেশের ভাবমূর্তিও বৃদ্ধি পেত।

কিন্তু প্রায় চার/পাঁচ বছরেও ট্রাফিক ডিজিটাইজডের প্রজেক্ট এখনও আলোর মুখ দেখেনি। শুনেছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গন্ডি পেরিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে যায়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা অত্যন্ত ভিশনারী লিডার। তিনি পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেলের মত মেঘা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে একনেক সভায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট অনুমোদন দিচ্ছেন। রাজধানী শহর ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট তাঁর কাছে এমন কোন বড় প্রজেক্ট নয়। আমার বিশ্বাস এ প্রজেক্ট একনেকের সভায় উঠলেই তিনি অনুমোদন করে দিতেন। কিন্তু মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিনেও প্রজেক্টটি একনেকে উঠাতে পারল না। আমার অবসরে আসার পর পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রজেক্টটি পাস করানোর জন্য কোন চেষ্টা-তদবির করছে বলে মনে হয় না।

ট্রাফিক পুলিশকে বায়ু ও শব্দদূষণের কারণে সৃষ্ট জটিল রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচাতে হলে তাদেরকে রাস্তা থেকে তুলে নিতে হবে। ক্যামেরা ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পুলিশ গাড়িতে এবং কন্ট্রোলরুমে বসে ওযাচ করবে এবং আইন লংঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে। ক্যামেরাতেও আইন লঙ্ঘনের দৃশ্য বন্দি হবে। উন্নত ও সভ্য দেশে এ ব্যবস্থাই চালু আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রাজধানী শহরে যদি সনাতনী ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু থাকে তবে শুধু ট্রাফিক পুলিশই রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে না দেশের উন্নয়নের চিত্রও তমসাচ্ছন্ন থেকে যাবে। বিদেশী নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা দেখে দেশের উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্য দেখতে না পেয়ে তাদের মনে প্রশ্ন জাগবে কেন এমন অবস্থা।

অনেকের ধারণা মেট্রোরেল চালু হলে ট্রাফিক যানজট কমে যাবে এবং এ সমস্যাগুলো থাকবে না। আসলে তা ঠিক না। ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও যানজটকে পৃথকভাবে দেখতে হবে। রাস্তায় গাড়ি থাকবে। নানাবিধ যানবাহন থাকবে। সেখানে ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতেই হবে। একটা দেশের ট্রাফিক শৃঙ্খলা সে দেশের উন্নয়ন ও সভ্যতার প্রতীক। ট্রাফিক পুলিশের স্বাস্থ্য সংকট নিরসন, সড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর অর্থাৎ ডিজিটাইজড ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

আমাদের দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনা ছাড়া কোন কাজই আগায় না। এদেশের আমলাতন্ত্রের ইতিহাস আমরা সবাই কম-বেশি জানি। যে কোন বিষয়ই দীর্ঘ সূত্রতায় ফেলে রাখার অভিযোগ বরাবর তাদের বিরুদ্ধে আছে। নথির পিছনে অব্যাহতভাবে পশ্চাৎধাবন না করলে নথি সাধারণত গতি পায় না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, আগ্রহ ও হস্তক্ষেপেই পুলিশের সকল অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি যদি দয়া করে স্বরাষ্ট্র সচিব মহোদয়কে পুলিশের ট্রাফিক ডিজিটাইজড প্রজেক্ট প্রস্তাবটি একনেকের সভায় উঠানোর উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন তবেই ঐ প্রজেক্ট আলোর মুখ দেখবে। ট্রাফিক পুলিশকে সনাতনী ও অমানবিক ডিউটি থেকে মুক্তি দিয়ে মানবিক কারণে তাদেরকে রোগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা করা যেমন জরুরি তেমনি উন্নত দেশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ন্যায় আমাদের রাজধানী শহরেও আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা অপরিহার্য। এতে নাগরিকরা স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারবে এবং দেশের ভাবমূর্তিও বৃদ্ধি পাবে।

লেখক : সাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল, বাংলাদেশ পুলিশ।

এজেড এন বিডি ২৪/ রামিম

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x