সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
করোনায় প্রাণ হারালেন আরও ৪ জন সেই বিচারকের ভুল ছবি দিয়ে তসলিমার টুইট সিডরে ভেসে যাওয়া সেই রিয়া এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বিশ্বকাপে কোন দল কত টাকা পেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কতটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ছক্কার রাজা পরিবহণ ধর্মঘট বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা বৈঠক হঠাৎ স্থগিত আফগানরা না জিতলে কী করবে ভারত, জানালেন জাদেজা শেষ দুই বলের ছক্কায় উইন্ডিজের সংগ্রহ ১৫৭ বিদায় ইউনিভার্স বস মোশাররফ করিমের সঙ্গী হচ্ছেন পার্নো মিত্র ‘জীবনটা কফির মতো’ দাবি না মানলে ধর্মঘট চলবে চট্টগ্রামে পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার পুরো কুরআনের ক্যালিগ্রাফি এঁকে প্রশংসায় ভাসছেন তরুণী দুবাইয়ে বাংলাদেশের পতাকার ফেরিওয়ালা তিনি
খাবার পানি নেই, বুদ্ধি বলে জীবন কাটছে এই দ্বীপের বাসিন্দাদের

খাবার পানি নেই, বুদ্ধি বলে জীবন কাটছে এই দ্বীপের বাসিন্দাদের

ফিচার ডেস্ক : কোনো হ্রদ, নদী বা ঝরনা কিছুই নেই। এককথায় পানির বড়ই অভাব। তা সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দ্বীপ এটি। এই দ্বীপে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করে। বছরের পর বছর ধরে কীভাবে পানি সঞ্চয় করে জীবন নির্বাহ করে চলেছেন এই দ্বীপের মানুষ, তা সত্যিই একটি বিস্ময়। এই দ্বীপের নাম বারমুডা। দ্বীপটির বিস্তৃতি মাত্র ৫৩ বর্গ কিলোমিটার। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে জেগে থাকা এই দ্বীপটি। এই দ্বীপে ২০২০ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের সমীক্ষা অনুযায়ী জনসংখ্যা ৬৪ হাজার। বারমুডায় গিয়ে থাকলে যে বিষয়টি প্রথমেই চোখে পড়বে তা হলো, এর ঘর-বাড়ির স্থাপত্য। নতুন-পুরোনো মিলিয়ে প্রতিটি বাড়িই দেখতে একইরকম। সাদা রঙের চুনাপাথরের ছাদ। চতুর্দিকে ঢাল থাকা সেই ছাদে খাঁজকাটা নক্সা করা। যাতে সহজেই পানি গড়িয়ে পড়তে পারে।

পানির সমস্যা দূর করার জন্য স্থানীয়েরা এ ভাবেই বৃষ্টির পানি সঞ্চয় করে রাখেন। সারা বছর এই সঞ্চিত বৃষ্টির পানি পরিশ্রুত করেই পানির সঙ্কট দূর করেন তারা। পাশাপাশি পানির অপচয় না করারও কথা দিনভর মেনে চলেন। পশ্চিমি দুনিয়ায় অন্যতম পানি সচেতন হিসেবেই চিহ্নিত বারমুডার মানুষ। সেই ১৭ শতক থেকেই ঘর-বাড়িতেও পানির অপচয় রোধের চিহ্ন টাই স্পষ্ট। প্রতিটি বাড়ির নক্সা কেমন হবে তা সে দ্বীপের আইনেও উল্লেখ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, বাড়ির ছাদ এমন ভাবেই নির্মাণ করতে হবে যাতে তার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি ভূগর্ভস্থ জলাধারে সঞ্চিত হয়।

সেখানকার বাসিন্দারা বাড়ির এই নক্সা বছরের পর বছর ধরেই অনুসরণ করে আসছেন। ফলে ২০০ বছরের পুরোনো বাড়ির পাশেই গড়ে ওঠা নতুন বাড়ির ছাদও একই রকম দেখতে। ঐ দ্বীপের ১৬৮০ সালের বাড়িটিও দেখতে একই রকম। প্রতিটি বাড়ি এই নক্সায় গড়ে তোলাও বাধ্যতামূলক। চুনাপাথর-নির্মিত ছাদ বেয়ে পানি নীচের দিকে গড়িয়ে আসে। তারপর পাইপ দিয়ে ভূগর্ভের জলাধারে প্রবেশ করে বৃষ্টির পানি। পানি সঞ্চয়ের জন্য প্রতিটি ঘরের নীচেই ১০০ গ্যালনের জলাধার থাকা বাধ্যতামূলক।

দৈনন্দিন জীবনেও বারমুডার প্রতিটি মানুষ পানির অপচয় রোধে সদা সতর্ক। যতটা সম্ভব পানির খরচও কম করে থাকেন তারা। শিশুদেরও ছোট থেকেই এ বিষয়ে সচেতন করা হয়। এত চেষ্টার পরও অনেক সময়ই পানি সঙ্কটে ভুগতে হয় তাদের। বিশেষ করে ২০ শতকে বারমুডার পর্যটন শিল্প ফুলেফেঁপে ওঠায় পানির সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। তা কাটাতে ঐ সময়ই দ্বীপের প্রথম ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট গড়ে ওঠে। সমুদ্রের নোনা পানি পরিশ্রুত করে তা পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়।

সরকারি তরফে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হলেও বারমুডার বেশিরভাগ মানুষ আজও বৃষ্টির পানি ধরে রেখে তা ব্যবহারের পক্ষপাতী। জীবন বাঁচাতে পানির জন্য যে লড়াই তারা চালাচ্ছেন, তাদের কাছে সরকারি পানি নেয়ার অর্থ সেই লড়াইয়ে হার মানা। ঐ দ্বীপের মানুষ জীবনযুদ্ধে হার মানতে রাজি না।

এজেড এন বিডি ২৪/হাসান

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x