বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
ফিফটির পর সাজঘরে মাহমুদউল্লাহ অর্ধশতক হাঁকিয়ে ফিরলেন মাহমুদুল্লাহ পাপুয়া নিউগিনিকে ১৮২ রানের টার্গেট দিল টাইগাররা ৩৯ বছর আগে পাপুয়া নিউগিনির কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ রিয়াদের দ্রুততম ফিফটিতে বাংলাদেশের বিরাট সংগ্রহ জামিন পেলেন সেই চিত্ত রঞ্জন দাস পুলিশের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে রাজধানীতে ফের নিজের মোটরসাইকেলে আগুন সাড়ে ১৮ হাজারে বিক্রি হলো সাড়ে ১৫ কেজির বোয়াল সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হলেন সুভাষ চন্দ্র বাদল ইকবালকে পাগল দাবি করে যা বলছে তার পরিবার সুযোগ হাতছাড়া সাকিবের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী জাতির শত্রু’ সাজঘরে ফিরলেন সাকিবও পুলিশ সুপারের দায়িত্বে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাহিরা জোর করে বিয়ে দেওয়ায় বরের মামলায় কনেসহ ৯ জন জেলে
এক যুগ ধরে শিকলে বাঁধা ভাই-বোন

এক যুগ ধরে শিকলে বাঁধা ভাই-বোন

অনলাইন ডেস্কঃ দুই পায়ে পরানো হয়েছে লোহার চাকতি লাগানো শিকল ও সাইকেলের চেইন। আর সেই শিকলে ও চেইনে লাগানো হয়েছে বড় তালা। দিনে বাড়ির উঠানের কাঁঠাল গাছের সঙ্গে আর রাতে ঘরে চৌকির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় তাদেকে। আর এভাবেই অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে দুই সন্তানকে প্রায় এক যুগ ধরে পায়ে লোহার শিকল ও চেইন লাগিয়ে বেঁধে রাখেন হতদরিদ্র মা রওশন আরা।

দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত এই পরিবারটি তিনবেলা যেখানে আহারই জোটাতে অক্ষম, সেখানে সন্তানদের চিকিৎসা করাবেন কিভাবে। অর্থের অভাবে তাদের চিকিৎসা কারানো সম্ভব হচ্ছে না। মেয়ে আম্বিয়া বেগম (২৬) ও ছেলে রোস্তম আলী (২৪)। প্রায় এক যুগ ধরে তারা দুজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মনে করেন-উন্নত পরিবেশে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলে আবারো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বিয়ালা গ্রামের আতার পাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও রওশন আরা দম্পত্তির মানসিক ভারসাম্যহীন বড় মেয়ে মোছা. আম্বিয়া বেগম ও মেঝ ছেলে মো. রোস্তম আলী।

এক যুগ ধরে শিকলে বাঁধা ভাই-বোন 

এক যুগ ধরে শিকলে বাঁধা ভাই-বোন

উপজেলা সদর থেকে আঁকা-বাঁকা রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে চরে, কখনো পায়ে হেঁটে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা টিনের বেড়া এবং টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরে শিকলবন্দী অবস্থায় দু-ধারে বসে আছেন আম্বিয়া বেগম ও রোস্তম আলী।

সেই ঘরে আছে একটি চৌকি, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল। চৌকির ওপর ছেঁড়া ও আধা ভেজা কাঁথায় দু-পাশে বসে ছিলেন তারা।

আম্বিয়া বেগমের পরনে ছিল ছেঁড়া ময়লা ফ্রক, পায়জামা সেই সঙ্গে কোনো মতে মাথার ওপরে এক টুকরা ওড়না আর রোস্তম আলীর পরনে ছিল ছেঁড়া ময়লা শার্ট ও লুঙ্গি। ঘরে কেউ ঢুকলেই তার নাকে লাগবে দুর্গন্ধ। তাদের প্রস্রাব-পায়খানা সারতে হয় ঘরের পাশেই। চেয়ারে রাখা ছেঁড়া ও ময়লা কাঁথা দুর্গন্ধে ভরা। তাদের পায়ে লাগানো লোহার শিকল ও সাইকেলের চেইন।

দিনের বেলা কাঁঠাল গাছের সঙ্গে বাঁধা সেই শিকল ও চেইন। আর রাতে বেলা ঘরে চৌকির সঙ্গে দু পাশে বেঁধে রাখা হয় তাদেরকে। প্রায় ১০ ফুটের শিকলে এক যুগ ধরে এভাবেই বাঁধা মানসিক ভারসাম্যহীন আম্বিয়া বেগম এবং রোস্তম আলীর জীবন। সেখানে তাদেরকে কেউ খাবার খাইয়ে দিলে তাদের ক্ষুধা মেটে, নতুবা থাকতে হয় উপোস।

এক যুগ ধরে শিকলে বাঁধা ভাই-বোন 

এক যুগ ধরে শিকলে বাঁধা ভাই-বোন

সেখানে কথা হলো আম্বিয়া ও রোস্তমের মা রওশন আরা সঙ্গে। তিনি অশ্রু সিক্ত নয়নে বলেন, স্বামী রফিকুল ইসলাম একজন দিন মজুর। আর আমি গৃহিনী। তবে সংসারের অর্থ স্বচ্ছতার জন্য অন্যের বাড়িতে কাজ করি। প্রায় ২৮ বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়। এরই মধ্যে আমাদের সংসারে ছেলে-মেয়ে জন্ম হয়। আমার বড় মেয়ে আম্বিয়া বেগম যখন বারো বছরের কিশোরী, ঠিক তখনই দেখা দেয় তার আচরণে অস্বাভাবিকতা। সে সময় স্থানীয় কবিরাজের পরামর্শে কিশোরী আম্বিয়াকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের দিনমজুর মনোয়ারের সঙ্গ বিয়ে দেই। কিন্তু বিধি বাম, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে তার আচরণগত সমস্যা আরো বেশি খারাপ হতে থাকে।

এ অবস্থায় তাকে বগুড়া, পাবনা ও রংপুরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু তার দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে আমাদের সংসারের একমাত্র ছেলে রোস্তমও ১২ বৎসর বয়সে আর দশজন ছেলের তুলনায় ভিন্ন রকম আচরণ শুরু করে। এই দেখে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলেও টাকা-পয়সার অভাবে তারও চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে। পরে সে স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন প্রাণীকে মারধর করতে শুরু করে। আমার ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করাসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের কাছে পেলেই তাদের মারধর শুরু করে।

শিকলে বাঁধা রোস্তম আলী

শিকলে বাঁধা রোস্তম আলী

অনেক সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে তারা আর সময় মতো বাড়িতে ফিরে আসে না। আমার দুই সন্তান যেন আমাদেরকে ছেড়ে দূরে কোথাও না যায়, সেই আতঙ্কেই প্রায় ১২ বছর ধরে ঘরের মধ্যে, কখনো বাড়ির উঠানে কাঁঠাল গাছের সঙ্গে পায়ে শিকল লাগিয়ে তাদেরকে বেঁধে রাখতে বাঁধ্য হয়েছি। এসব দুশ্চিন্তার কারনে বর্তমান তাদের বাবা রফিকুল ইসলামও প্রায় পাগল। আমার সংসারে এতো অশান্তি থাকায় আমি কি করব তা আমার মাথায় কোন কাজ করছেনা। এই বলে তিনি হাও..মাও করে কেঁদে উঠলেন।

প্রতিবেশী ইয়াকুব আলি বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন আম্বিয়া বেগম ও রোস্তম আলীসহ মা-বাবা একসঙ্গে থাকেন। তারা খুব অসহায়। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করতে পারছেন না। তবে সু-চিকিৎসা করাতে পারলে তারা খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।

আরেক প্রতিবেশী কুলসুম বেগম বলেন, তাদের পরিবারের প্রায় সবাই এখন পাগল। শুধু তাদের মা তাদেরকে দেখভাল করেন। অভাবের কারণে তারা ঠিকমতো খেতেও পারেন না। অনেক সময় তাদেরকে ছেড়ে দিলে কোথাও গেলে আর বাড়ি ফিরে আসতে চায় না। তাই তাদের পায়ে শিকল দিয়ে গাছে বেঁধে রাখতে হয়।

শিকলে বাঁধা আম্বিয়া বেগম

শিকলে বাঁধা আম্বিয়া বেগম

উপজেলার মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান আ. ন. ম. শওকত হাবিব তালুকদার লজিক বলেন, তাদেরকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই দুই ছেলে-মেয়েকে সু-চিকিৎসার জন্য সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে সার্বিক চেষ্টা করা হচ্ছে।

কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিন রেজা বলেন, আমার জানা মতে আম্বিয়া বেগম ও রোস্তম আলীকে উন্নত পরিবেশে রেখে দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলে আবারো তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কালাইয়ের ইউএনও টুকটুক তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে নিজেই ওই দুই ভাই-বোনের বাসায় গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি এবং তাদের পরিবারের হাতে কিছু নগদ অর্থও দেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির বিষয়ে তাদের কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন আছে। তার পরিবারকে খুব দ্রুত সেই কাগজ-পত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। জমা দিলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার জন্য পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হবে।

এজেড এন বিডি ২৪/ তমা

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x