শনিবার, ২১ মে ২০২২, ১২:০৭ অপরাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
২০ বছর পর আবারও বেন অ্যাফ্লেক-জেনিফার লোপেজের বাগদান রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শেষ নেই চাঁদাবাজির তবুও ‘বদলি’ খেলোয়াড় তাইজুল! সাকিব আল হাসানের শাশুড়ি আর নেই অভিযুক্তকে আজীবন নিষিদ্ধের দাবি, চাহালকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছেন শাস্ত্রী টেকনাফে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১ ‘ভারতকে বেশি ভালোবাসলে, সেখানে চলে যান’, ইমরানকে মরিয়াম ভাগ্য নির্ধারণী অধিবেশনে অনুপস্থিত ইমরান খান বহ্নি চরিত্রে মিথিলার লুক খুলনায় ট্যাংকলরি শ্রমিকদের কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত ‘প্রেমের প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় ওসির মেয়েকে মারধর, মামলা দায়ের ডা. বুলবুল হত্যাকাণ্ড; চার পেশাদার ছিনতাইকারী গ্রেফতার মেয়েদের নিয়ে স্কুল থেকে ফেরা হলো না সাবিনার ‘রাজকুমার’ শাকিবের নায়িকা হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টনি নিয়ম তো সবার জন্য এক মামা, ঋতুপর্ণাকে খোঁচা শ্রীলেখার?
এইচএসসি পাসে এমবিবিএস

এইচএসসি পাসে এমবিবিএস

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  মাছুদুল হক নামে এইচএসসি পাস এক ব্যক্তি এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে অস্ত্রোপচারসহ নানা চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মাগুরার ক্লিনিক মালিক সমিতি।রোববার দুপুরে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়।

মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আহমেদ বলেন, মাছুদুল হক নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন মাগুরায় অস্ত্রোপচারসহ নানা অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি চিকিৎসক নয়। নিজেকে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি পিজিটি, সিডিডি সার্জন এ ধরনের যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন মাছুদুল হক। আসলে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পাস তিনি। পরে ১৫ বছর রাশিয়ায় থেকে একটি ডিপ্লোমা সনদ জোগাড় করেন। দেশে ফিরে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে অস্ত্রোপচারসহ নানা প্রকার চিকিৎসা শুরু করেন। তার ভুল অস্ত্রোপচারে অসংখ্য রোগী মারা গেছেন।

তারা বলেন, ২০০৫ সালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এক রোগীর খাদ্যনালিতে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে নাড়ি কেটে গেলে ক্ষতস্থানে পলিথিন দিয়ে বেঁধে দেন মাছুদুল হক। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসকরা পুনরায় অস্ত্রোপচার করে ওই পলিথিন উদ্ধার করেন। তখন মাছুদুল হককে পলিথিন ডাক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।

ওই সূত্র ধরে স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ২০০৬ সালে ড্যাবের সদস্য পদ নেন ও বিএমডিএস চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত হন মাছুদুল হক। যার নম্বর-এ-৪৩২১৪। এই নিবন্ধনের পর তিনি মাগুরা ডায়াবেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। এখনো সেখানে কর্মরত আছেন তিনি। পাশাপাশি বিগত সময়ের অপকর্মে উপার্জিত অর্থে মাগুরা সদর হাসপাতালের পূর্বদিকে ১০তলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। সেখানে তৈরি করেছেন নিজস্ব ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। সেখানে সব রোগীর অস্ত্রোপচার করছেন তিনি।

তারা আরও বলেন, ২০১২ সাল থেকে শুরু করে গত সাত বছরে মাছুদুল হককে ভুয়া চিকিৎসক তুলে ধরে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিক চিঠি দিয়েছি আমরা। কিন্তু কোনো সুফল হয়নি। বরং মাছুদুল হকের অপচিকিৎসা আরও বেড়ে গেছে।

মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৩ জুন একটি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মাছুদুল হকের ভুয়া পরিচয়ের তথ্য প্রমাণ ওঠে আসে। সেখানে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী নন এ কথা স্বীকার করেন। ওই টেলিভিশনের প্রতিবেদক মাছুদুল হককে তার ব্যবস্থাপত্রে এমবিবিএস লেখার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবই সম্ভব। তার এই বক্তব্য দেশদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছুদুল হকের প্রকৃত নাম শহিদুল হক। মাছুদুল হকের এক আত্মীয় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করার পর মারা যান। শহিদুল মৃত ওই আত্মীয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে মাছুদুল হক সেজে রাশিয়া গিয়ে ডিপ্লোমা করে অসেন। ৯০-এর দশকের শুরুতে অনৈতিক পথে ড্যাবের মাধ্যমে ডক্টরস কাউন্সিলের সদন নিয়ে মাছুদুল হক সেজে এমবিবিএস ডাক্তার বনে যান।

ক্লিনিক মালিক সমিতির অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আলী আকবর বলেন, এ ব্যাপারে মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক তদন্ত টিম গঠন করে মাছুদুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুদুল হক বলেন, আমি বিএমডিএস থেকে নিবন্ধন নিয়ে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছি। আমি সংবাদ সম্মেলন করে সব তথ্য উপস্থাপন করব।

এজেড এন বিডি ২৪/ রামিম

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x