শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- 01855883075 ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
তিনি প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ত্রিপুরার নীল রানাউত ধর্ষণের দায়ে ৭ পুরুষকে হত্যা করেন যে নারী! কাঞ্চন বলছে মাসে সাড়ে ৩ লাখ টাকা চেয়েছি, প্রমাণ কী : পিঙ্কি ওসি প্রদীপের সহযোগী কনস্টেবল সাগরের আত্মসমর্পণ এবার ইন্দিরা গান্ধী চরিত্রে কঙ্গনা, পরিচালনাও করবেন তিনি ব্রাজিলের সেই গোল নিয়ে বিতর্ক থামছেই না, দেখুন ভিডিও জর্ডান-ইরানের গ্রুপে সাবিনা-মৌসুমিরা জেলের জালে ধরা পড়লো শুশুক, কিনে জরিমানা গুনলেন দুজন তেত্রিশ বসন্ত পেরিয়ে চৌত্রিশে মেসি নির্মাণ হচ্ছে আটটি আধুনিক সাইলো জীবিকার চাকা সচল রাখতে দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার শনিবার থেকে পিরোজপুরের ৪ পৌর এলাকায় লকডাউন সাবেক ডিআইজি প্রিজন্স পার্থের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘদিন করোনায় ভুগে হতাশা-যন্ত্রণায় আত্মহত্যা জেনারেল র‍্যাংক ব্যাজ পরানো হলো নতুন সেনাপ্রধানকে
শ্রম বাজারে যোগ্যতা প্রমাণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা

শ্রম বাজারে যোগ্যতা প্রমাণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ “পৃথিবীতে যা কিছু মহান চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”, নারী পুরুষকে এভাবেই দেখেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কবিতার এই লাইনটির যথার্থতা আবারো প্রমাণ হয়েছে শ্রম বাজারে নারীদের অবদান। কায়িক পরিশ্রমে পুরুষের মতই মানিয়ে নিচ্ছেন নারী শ্রমিকরা। বর্তমান সময়ের শ্রমিক সংকটের বড় অংশও পুরণ করছেন তাঁরা।

মেহেরপুর জেলায় বিভিন্ন খাতে নারী শ্রমিকদের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। নির্মান ও হস্তশিল্প খাত ছাড়াও কৃষিক্ষেত্রে এখন নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। সরকারী বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকানার নির্মান খাতে নারীদের অংশগ্রহণ শ্রমিক সমস্যা কাটিয়ে তুলছে। অপরদিকে পুরুষদের সাথে সমানতালে কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক অসহায় নারী।

মেহেরপুরের ইকুড়ি গ্রামের মধ্যবয়সী আসমান খাতুন। ছেলের জন্মের পর স্বামী পরকিয়া প্রেমে পড়ে অন্য নারীকে বিয়ে করে আলাদা সংসার পাতেন। অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ মা-বাবা ও শিশু সন্তান নিয়ে দুঃখের অথৈ সাগরে পড়েছিলেন আসমা খাতুন। অন্য নারীদের মতো তিনি ভিক্ষার ঝুলি হাতে তুলে নেননি। আত্মপ্রত্যায়ী এই নারী গ্রামের পুরুষ শ্রমিকদের সাথে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন। তার সফলতায় অসহায় আরো অনেক নারী তার সাথে কাজে যোগ দেন। এক পর্যায়ে ৩০-৪০ জন নারী পুরুষের সমন্বয়ে একটি দল গড়ে ওঠে। এখন ওই দলের সর্দার হিসেবে শ্রমিকদের কাজ পরিচালনা করছেন আসমা খাতুন। আসমা খাতুনের মত অনেক নারী আজ শ্রমিকের কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন।

আসমা খাতুন বলেন, পুরুষের চেয়ে নারীদের শারীরিক সক্ষমতা কম হলেও কাজের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়ে না। আমার দলের মেয়েরা পুরুষের সাথে সমানতালে কাজ করেন। আমি বিভিন্ন মালিকের কাজের মৌখিক চুক্তি করি। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় দল ভাগ করে কাজ সম্পাদন করে হাজিরা নিয়ে বাড়ি যায়। আসমা খাতুনের ছেলে এখন পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র। পিতা-মাতা ও ছেলেকে নিয়ে বেশ সুখেই আছেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল কয়েক বছর ধরে মেহেরপুর জেলায় বাড়ি নির্মানের হিড়িক চলছে। বিশেষ করে প্রবাসীরা গ্রামেও দৃষ্টিনন্দন অট্টালিকা তৈরীতে ব্যস্ত। এছাড়াও কৃষি প্রধান মেহেরপুর জেলায় সব সময় শ্রমিকের ঘাটতি রয়েছে। ফলে নির্মান ও কৃষি ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকরা এখন জায়গা করে নিয়েছেন।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কর্মক্ষেত্রে নারীরা প্রতিকুল পরিবেশ মোকাবেলা করেই এগিয়ে যাচ্ছেন। নির্মানাধীন কোন বাড়ি-অফিসে মাটি ভরাট, রাস্তার মাটি কাটা, বালু সরানো, রাস্তা নির্মান কাজসহ শ্রমিকের প্রায় সব কাজেই নারী শ্রমিকদের সম্পৃক্তা রয়েছেন। প্রতিদিন একজন নারী শ্রমিক পুরুষ শ্রমিকদের সমমান ৩০০ টাকা মজুরী পেয়ে থাকেন। এ মজুরীর জন্য সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কাজ করতে হবে। নির্ধারিত এই সময়ের পরেও চুক্তিতে কিছু কাজ করে বাড়তি কিছু আয় হয়। গড়ে প্রতি মাসে একজন নারী শ্রমিক ১০-১২ হাজার টাকা আয় করেন।

নারী শ্রমিক হিজলবাড়ীয়া গ্রামের ছামেনা খাতুন বলেন, আমাদের সাথে যারা কাজ করেন তাদের বেশিরভাগই স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা। গরিব পরিবারের সদস্য যাদের অন্য কোন আধার নেই তারাই মূলত শ্রমিকের কাজ করেন। এখন কাজের অভাব নেই। সারা বছরই আমাদের কাজ থাকে।
নারী শ্রমিকদের দলের সদস্য জুগিন্দা গ্রামের আলফাজ উদ্দীন বলেন, মাটি কাটার কাজে একজন নারী ও একজন পুরুষের জোড়া করা হয়। নারীরা মাটি কাটতে পারেন না। আমরা মাটি কেটে ঝুড়ি পুরে দিলে তারা মাথায় করে নির্দিষ্ট স্থানে ঢেলে দেয়। আমাদের একটু বেশি পরিশ্রম হলেও টিমের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করি। হাজিরাও সমান নেয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত এখন নারী শ্রমিকদের দেখা যায়। নারী-পুরুষ শ্রমিকদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন হয়। ওই দলের সর্দার তাদের কাজ পরিচালনা করে। সর্দারের সাথে কাজের মালিকের কথাবার্তা হয়। সেমতে দলের সদস্যদের বিভিন্ন উপদলে ভাগ করে প্রতিদিনের কাজ সম্পাদন করা হয়ে থাকে। কাজ শেষে সর্দারের কাছ থেকে মজুরী বুঝে নেয়।

জেলা শহর, কেদারগঞ্জ, আমঝুপি, গাংনী ও বামন্দীসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিদিন ভোরে জড়ো হন নারী-পুরুষ শ্রমিকরা। সেখান থেকে সর্দারের নির্দেশ মত কাজে জোগদান করেন।

ইমারত নির্মান শ্রমিক সমিতি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, এলাকার শ্রমিক শ্রেণীর বেশিরভাগ মানুষ বিদেশমুখী। ফলে সব কাজেই শ্রমিক সংকট রয়েছে। বিশেষ করে নির্মান কাজে শ্রমিকের বড় সংকট। তবে নারীরা এই কঠিন কাজে সম্পৃক্ত হওয়ায় সাশ্রয়ী হচ্ছেন মালিকপক্ষ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডক্টর আখতারুজ্জামান বলেন, কৃষিকে বিপ্লব হলেও শ্রমিক সংকটে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতে আরো নারী শ্রমিক সম্পৃক্ত হচ্ছে। এতে নারী শ্রমিক ও কৃষক উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

এজেড এন বিডি ২৪/ শফি 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved@2021 aznewsbd24.com
Design & Developed BY MahigonjIT