সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :
সুপ্রিয় পাঠক, শুভেচ্ছা নিবেন। সারাবিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের ওয়েব সাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং আমার ফেসবুক ফ্যান পেজে লাইক দিয়ে ফলো অপশনে সি-ফাষ্ট করে সঙ্গেই থাকুন। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারে স্বল্পমূল্যে বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- aznewsroom24@gmail.com ধন্যবাদ।
সর্বশেষ সংবাদ :
করোনায় প্রাণ হারালেন আরও ৪ জন সেই বিচারকের ভুল ছবি দিয়ে তসলিমার টুইট সিডরে ভেসে যাওয়া সেই রিয়া এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বিশ্বকাপে কোন দল কত টাকা পেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কতটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ছক্কার রাজা পরিবহণ ধর্মঘট বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা বৈঠক হঠাৎ স্থগিত আফগানরা না জিতলে কী করবে ভারত, জানালেন জাদেজা শেষ দুই বলের ছক্কায় উইন্ডিজের সংগ্রহ ১৫৭ বিদায় ইউনিভার্স বস মোশাররফ করিমের সঙ্গী হচ্ছেন পার্নো মিত্র ‘জীবনটা কফির মতো’ দাবি না মানলে ধর্মঘট চলবে চট্টগ্রামে পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার পুরো কুরআনের ক্যালিগ্রাফি এঁকে প্রশংসায় ভাসছেন তরুণী দুবাইয়ে বাংলাদেশের পতাকার ফেরিওয়ালা তিনি
অগ্নিকন্যা প্রীতিলতার কথা

অগ্নিকন্যা প্রীতিলতার কথা

মোহছেনা ঝর্ণা : ‘‘দেশজুড়ে যুদ্ধ ও পরিস্থিতির কারণে যে যেখানেই যাক না কেন, প্রীতিলতার উত্তরসূরি চট্টগ্রামের নারী শুধু প্রাণ ভয়ে নিষ্ক্রিয় বসে থাকেনি কোথাও। কেউ স্বাধীন বাংলা বেতারে শিল্পী ও শব্দ সৈনিক হিসেবে যোগদান করেছেন। কেউ সশস্ত্র যুদ্ধে ট্রেনিং নিয়ে গেরিলা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। কেউ মুক্তিবাহিনীরর ক্যাম্পে ও হাসপাতালে চিকিৎসা ও নার্সের কাজ করেছেন।

দেশের ভিতরে যারা ছিলেন তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে, খাদ্য দিয়ে, শীত বস্ত্র সংগ্রহ করে দিয়ে, পাকবাহিনীর অবস্থানের খবরাখবর সংগ্রহ করে, মুক্তিবাহিনীরর কাছে পৌঁছে দিয়ে ইত্যাদি নানা রকম দু:সাহসিক কাজের স্বাক্ষর রেখে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যময়। আর এভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে কত নারী হয়েছেন নিঃস্ব, সর্বহারা। কেউ ভাই, কেউ পিতা, কেউ স্বামী, কেউ পুত্র কন্যাকে করেছেন স্বাধীনতার বেদিমূলে উৎসর্গ, তার সঠিক পরিসংখ্যান আজো নির্ণয় হয়নি।

কত নারী হয়েছে ধর্ষিতা, কত নারী তার গর্ভে ধারণ করেছে বর্বর পাকিস্তানি হায়েনাদের নির্যাতনের বীজ, তারও সঠিক হিসাব লেখা নেই কোথাও। কত নারী দেশীয় রাজাকার আলবদর ও পাকসেনাদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিষ খেয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন, তারও সঠিক কোনো হিসাব পাওয়া যায় না থেকে।” পড়ছিলাম বেগম মুশতারী শফী রচিত “মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী” বইটি।

তাঁর এই বইতে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা যে কয়জন নারীর কথা তুলে ধরেছেন, তাঁরা হলেন, মনি ইমাম, রওশন আরা মোস্তফা, জাহানারা ইউসুফ, ডাঃ শামসুন্নাহার কামাল, সালেহা চৌধুরী, ডা. রেনুকণা বড়ুয়া, আতিমমাওলা, রিজিয়া বেগম, জাহানারা আঙ্গুর, রায়হানা শফি, দিলারা ইসলাম, শ্রীমতী মিনা বিশ্বাস এবং শ্রীমতী নিরবালা দেবী।

নারীর সংগ্রাম, আন্দোলন, ত্যাগের কথা বললে প্রথমেই চলে আসে অগ্নিকন্যা প্রীতিলতার কথা। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কর্মী, অন্যতম নেত্রী।

পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবে সফল অভিযান পরিচালনা করে ফেরার পথে ধরা পড়েন প্রীতিলতা। কিন্তু শত্রুপক্ষের কাছে যেন অক্ষম হয়ে কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ না করে ফেলেন এই ভাবনা থেকেই নিজের সঙ্গে রাখা পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দেন চট্টগ্রামের এই বীরকন্যা। ১৯৩২ সালে অগ্নিকন্যা প্রীতিলতার দেখানো পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধেও হেঁটেছে এদেশের মেয়েরা।

পঞ্চাশের দশকে চট্টগ্রামে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের স্ত্রী রানা লিয়াকতের প্রতিষ্ঠিত ‘অল পাকিস্তান ওমেন এসোসিয়েশন’ (আপোয়া) ছাড়া মেয়েদের আলাদা কোনো সংগঠন ছিল না। ১৯৬০ সালে যখন চট্টগ্রামে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্ব¡াস হয় তখন ‘আপোয়া’র নারী সদস্যরাও রিলিফের কাজে এগিয়ে আসে। কিন্ত সেখানে কিছু দুর্নীতি লক্ষ্য করা গেলে সেখানকার কিছু সদস্য আলাদা হয়ে “বান্ধবী সংঘ” নামে আরেকটি মহিলা সংগঠন চালু করে। সেই সংগঠনের সদস্যরা নজরুল, রবীন্দ্র, সুকান্ত জন্মজয়ন্তী পালন ছাড়াও বাংলা নববর্ষ উদযাপন, একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের মাধ্যমে দেশ ও জাতি সম্পর্কে আরো সচেতন হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। তারা প্রকাশ করে মাসিক পত্রিকা ‘বান্ধবী’। নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করে ‘‘মেয়েদের প্রেস”নামে ছাপাখানা। সেই ছাপাখানাতে মেশিন চালানো, কম্পোজ করা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ নারীরাই সম্পাদন করতো।

সেই ছাপাখানা থেকে ‘বান্ধবী’ পত্রিকা ছাড়াও গোপন রাজনৈতিক ইশতেহার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল,স্কুল-কলেজের ম্যাগাজিনও ছাপা হতো। অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যের পাশাপাশি আরেকটা উদ্দেশ্য ছিল তা হলো ছাপানো লেখাগুলোর প্রুফ কাটতে কাটতে মেয়েদের কিছু জ্ঞান লাভ করা।

বান্ধবী সংঘ, বান্ধবী পত্রিকা ও মেয়েদের ছাপাখানায় তখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেসব মেয়েরা যোগদান করলেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন,হেনা চৌধুরী, আফিয়া ভূঁইয়া, তরুণ মন্ডল, বাসনা গুণ, মরিয়াম আনাম চৌধুরী, চিন্ময়ী রায়, ফিরোজা বেগম, কবি আইনুন্নাহার, নুরুন্নাহার বারী,আরতি দত্ত, শান্তি দস্তিদার, উমরতুল ফজল, ফিরোজা আহমেদ,সালেহা চৌধুরী, কল্পরানী মিত্র, শামসুন্নাহার কাশেম, ফাহমিদা আমিন,ফাতেমা করিম, মাসুদা নবী, রাণী রতি, ঝর্ণা তালেব,মনি ইমাম, হালিমা শাহজাহান, জরিনা নাসিরুদ্দিন, লুৎফেয়ারা বেগম, জাহানারা আঙুর প্রমুখ।

এই নারীদের মধ্যেই অনেকে অনবদ্য অবদান রেখেছেন মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে। প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় নাট্য শিল্পী মনি ইমামের কথা। মুহূর্তেই যেন সবকিছু হারিয়ে ফেললেন মনি ইমাম। চট্টগ্রামের অনেক প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রান্তিক, জাগৃতি এবং বান্ধবী সংঘের অনেক মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। চট্টগ্রাম বেতারেও অভিনয় করতেন।

২৯ মার্চ, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের লাল খাঁ বাজারের পাশে থাকা পুলিশ লাইনের পাহাড়ের উপরে পাকিস্তানি সৈন্যরা আক্রমণ করে। সে সময় মনি ইমামদের বাড়িতে দুজন আহত পুলিশকে আশ্রয় দেয়। মনি ইমামের ছোট ভগ্নিপতি ডাঃ গোলাম মোস্তফা আহত পুলিশদের ক্ষতস্থান থেকে গুলি বের করে তাদের সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসা করেন।
পরদিন মনি ইমাম বাসার কাজের ছেলেটাকে খাবার পানি আনার জন্য বাইরে পাঠানোর পর অনেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন ছেলেটি ফিরে আসছিল তখন মনি ইমামের স্বামী আলী ইমাম নিজেই বেরিয়ে পড়লেন ছেলেটিকে খুঁজতে। তার সাথে সাথে বের হলেন তাঁর ভায়রা ভাই ডাঃ মোস্তফা।  তাঁরা বাইরে যাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রচ- গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। সেই গোলাগুলির শব্দ সারা জীবনের জন্য স্তব্ধ করে দেয় মনি ইমামের জীবন। শহীদ হন কাজী আলী ইমাম এবং ডাঃ গোলাম মোস্তফা।

মুক্তিযুদ্ধের আরেক যোদ্ধা জাহানারা ইউসুফ। যুদ্ধে হারিয়েছেন স্বামী কাজী ইউসুফ এবং বড় পুত্র কাজী মো: সাদিক হাসান, যাকে মা জাহানারা ইউসুফ ডাকতেন “বড় বাবুজী” নামে।

বড় বাবুজী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ছাত্র নেতা আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হলে শান্তশিষ্ট ছেলে বড় বাবুজীও সংগ্রাম মুখর হয়ে উঠেন। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য কত চেষ্টা করলেন, কৌশল করলেন তবু পারলেন না শেষ রক্ষা করতে।

চট্টগ্রামের আরেকজন বীর নারী ডাঃ শামসুন্নাহার কামাল। যুদ্ধের সময় তিনি চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে চিফ মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বন্দরের শ্রমিক, কর্মচারী যারা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন ডাঃ শামসুন্নাহার ছিলেন তাদের বিশ্বস্থ সহযোগী। চির বিশ্বাস নামে একজন চা- পাতা ব্যবসায়ীর ব্যবসা ছিল জুবিলী রোডে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পেছনেই ছিল বসতবাড়ি।

১ লা এপ্রিলের দিনে শোনা গেল জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে অসংখ্য সৈন্য ডিসি হিলের উপরে উঠছে। কেউ সন্দেহ করছে হয়তো পাঞ্জাবী সৈন্য, কেউ বলল হয়তো ইপিআর বাহিনী, আবার কেউ বলল হয়তো বেংগল রেজিমেন্ট সৈন্যরা। চির বিশ্বাসের স্ত্রী প্রকা- এক কেটলি চাবানিয়ে ঝুড়ি বিস্কুটসহ ছেলে মেয়েদের বললেন, তোমরা এই চা বিস্কুট নিয়ে ডিসি হিলে ফেরিওয়ালার বেশে যাও। যদি দেখো বাঙালি সৈন্য তাহলে এগুলো তাদের এমনিই খাইয়ে আসবে আর যদি দেখো পাক সেনা তাহলে কিছু বললে বলবে চা-বিস্কুট বিক্রি করতে এসেছ।

এই যে একজন নারী তার সন্তানদের কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই দেশের কাজে নিয়োজিত করে দিলেন এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আসল গল্প। মায়েদের মনে ভয় থাকলে শেষ পর্যন্ত ভয়কে জয় করে তারা তাদের বুকের সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছেন দেশ মাকে বাঁচানোর জন্য।

ডাঃ রেণুকণা বড়ুয়া ১৯৬৯ সালের এপ্রিল মাসে ইস্ট পাকিস্তান রেলওয়ে হাসপাতালে এসিস্ট্যান্ট সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর স্বামী সুপতি রঞ্জনও ছিলেন ইস্টার্ন রেলওয়ের ফিনান্স এডভাইজার। রেণুকনা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত করেন নিজেকে। কখনো কখনো ছুটে যেতেন গভীর জংগলে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করে পাকসেনারা যখন শহরের দিকে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছিল তখন সেখানে আরো অনেকের সাথে এক হয়ে ব্যারিকেড তৈরি করেন রিজিয়া বেগম নামের বীর নারী।

জাহানারা আঙুর নামের অত্যন্ত- সাহসী এই নারী গ্রামে গিয়ে পাড়ায় পাড়ায় বক্তৃতা দিতেন যেন গ্রামের যুবকেরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ হয়। গোপন মিটিং করে যুবকদের রিক্রুট করে তিনি ভারতে পাঠাতে লাগলেন ট্রেনিং নিতে। ভারত থেকে গেরিলা যোদ্ধারা এসে গোপনে যোগাযোগ করত জাহানারা আঙুরের সাথে। আঙুরের দেয়া গোপন খবরের ভিত্তিতে গেরিলারা পাকসেনা ছাউনির উপর দুঃসাহসিক হামলা চালায়।

এরকম সাহসী ভূমিকার কারণে মুক্তিযোদ্ধারা অনেকবার তাকে ভারতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্ত তিনি বললেন, তিনি দেশের মাটিতে থেকেই যুদ্ধ করতে চান।

আতিমা মাওলা নামের আরেকজন বীর নারী মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঁশখালীতে থাকা অবস্থায় গ্রামের মেয়েদের সংগঠিত করে ট্রেনিং দেয়া শুরু করলেন। শত্রু আক্রমণ করলে কিভাবে আত্মরক্ষা করতে হবে, সুযোগ পেলেই দা, বটি, ছুরি দিয়ে কিংবা দূর থেকে হাত বোমা ছূঁড়ে কিভাবে পালটা আক্রমণ চালানো যায় এ ব্যাপারে গ্রামে থাকা মেয়েদের ট্রেনিং দিয়েছিলেন আতিমা মাওলা। আতিমা মাওলার স্বামী এনায়েত মাওলাও মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক ছেলে-মেয়েকে ট্রেনিং দিয়েছিলেন। নাসিরাবাদে অবস্তিত নিজেদের বাড়ি “কাকলী” মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন। সে বাড়িতে একসাথে ছিল ২২ জন মুক্তিযোদ্ধা। পাকসেনাদের সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে সে ২২ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যেই ২১ জনই প্রাণ হারান।

অনেকটা অভিমান ভরা কন্ঠ নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে নিজের অংশ গ্রহণের কথা বলেন শ্রীমতি মীনা বিশ্বাস। বলেন, আমার আর অবদান কি! অবদান যদি বলেন,তাহলে আমি মনে করি আমার বড় অবদান, আমার সোনার টুকরা ছেলে অতনুকে দেশের স্বাধীনতার বেদিমূলে উৎসর্গ করেছি এটুকুই।

তাঁদের এটুকুই আমাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাঁদের এই ত্যাগ, এই সাহস, এই দেশ প্রেমের কথা এদেশ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে সারাজীবন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশ গ্রহণের কথা বললে সবাই কেবল পাক হানাদার বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের কথাই বলে কিন্তু এদেশের অনেক নারী যে অনেক সাহসী এবং বীরোচিত ভূমিকা পালন করেছে সে ইতিহাস এখনো সেভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি বলে আমাদের অনেক বীর নারী যোদ্ধার কথা আমাদের অজানাই রয়ে গেছে। মূলত সেই খেদ থেকেই অগ্নিকন্যা প্রীতিলতার উত্তরাধিকারী চট্টগ্রামের নারীরা যে মুক্তিযুদ্ধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সে বিষয় নিয়ে বেগম মুশতারী শফী লিখেছেন সত্য এবং ইতিহাস নির্ভর বই “মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী”। এই বইই একদিন এদেশের ইতিহাসের অসামান্য দলিল হিসেবে কাজ করবে।

চমৎকার এই বইটি পড়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারীদের বীরোচিত ভূমিকার কথা জানতে পেরে গর্ব অনুভব করছি। পাশাপাশি লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি কষ্ট সাধ্য এই সত্য এবং দুর্লভ ইতিহাস আমাদের উপহার দেয়ার জন্য।

এজেড এন বিডি ২৪/ ডন

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© 2021, All rights reserved aznewsbd24
x